আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ইসলামী ব্যাংকের ‘বিশেষ পরীক্ষা’, ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা


উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে ‘বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ—এমন অভিযোগ তুলেছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের একাংশ।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করে তারা অবিলম্বে এই পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানান।

কর্মকর্তাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পুনরায় ‘স্পেশাল কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্ট’ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের নোটিশ দিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, “এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ চাকরিতে বহাল থাকার পূর্বশর্ত বলা হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য বৈষম্যমূলক এবং এটি কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করার একটি ষড়যন্ত্র, যা সংবিধান ও শ্রম আইনের পরিপন্থী।”

অভিযোগে বলা হয়, ব্যাংকের প্রায় আট হাজার কর্মকর্তার মধ্যে শুধু ২০১৭ সালের পরে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক।

এর আগে গত ১৪ আগস্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২৯ আগস্ট পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করলে কর্মকর্তারা হাইকোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট আদালত পরীক্ষাটি স্থগিত করে নিয়মিত পদোন্নতির পরীক্ষা নেওয়ার আদেশ দেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা ড. এম কামাল উদ্দিন জাসিমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান আলী চৌধুরী এবং রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী কে. এম. সাইফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মুশফিকুল আবরার।