
গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাবেক তিন মন্ত্রীসহ ২৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা শুনানি শেষে এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া ১৫১টি মামলার মধ্যে এটিই প্রথম গৃহীত অভিযোগপত্র।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও রেজাউল করিম চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, এস এম আল মামুন, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আবদুচ সালাম, দিদারুল আলম ও নোমান আল মাহমুদসহ আরও অনেকে অভিযুক্ত হয়েছেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন জানান, বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন খারিজ করে আদালত ২৩২ জন আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর এক হামলার সময় গুলিতে আহত হন দোকান কর্মচারী শহীদুল ইসলাম। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশি অভিযোগপত্রে বলা হয়, শহীদুল ইসলামের শরীরে শটগান ও বন্দুকের ১০টি গুলি লেগেছিল, যা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছুড়েছিল।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত বছরের ১৯ আগস্ট চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৪ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী ও এম এ লতিফ বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অভিযুক্ত অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম এবং সাবেক কাউন্সিলর এসরারুল হক ও শৈবাল দাশও রয়েছেন।
