রাতে তুলে নেওয়ার পর সকালে আবার অবরোধ খাগড়াছড়িতে


খাগড়াছড়িতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ডাকা সড়ক অবরোধ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। শনিবার অবরোধ চলাকালে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন আহত হওয়ার পর শহরজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

এর মধ্যেই ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ নামে আন্দোলনকারী সংগঠনটি রোববার সকাল থেকে আবারও অবরোধ পালনের ঘোষণা দেওয়ায় জেলাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অবরোধের কারণে রোববার সকাল থেকে খাগড়াছড়ির সঙ্গে সারা দেশের এবং জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শনিবারের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর রাতে সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ২ হাজার ১৪৭ জন পর্যটককে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রোকন চৌধুরী।

যেভাবে ছড়াল সহিংসতা

গত মঙ্গলবার এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ শনিবার সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও একজন নির্মাণ শ্রমিককে অবরোধকারীরা মারধর করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। পরে বিকেলে জেলা প্রশাসন খাগড়াছড়ি শহর ও গুইমারা এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সাত প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে।

আন্দোলনকারী ‘জুম্ম ছাত্র জনতার’ মুখপাত্র উক্যনু মারমা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ অবরোধ করছি। কিছু দুষ্কৃতকারী আমাদের অবরোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেষ্টা করেছে।” তারা আলোচনার মাধ্যমে তাদের চারদফা দাবি পূরণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খোন্দকার জানিয়েছেন, স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক কাজ করছে।

এদিকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)’ এক বিবৃতিতে সম্প্রীতির স্বার্থে সকলকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় শয়ন শীল নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।