
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা। এখানকার ১১২টি মন্দির ও মণ্ডপে প্রতিমাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
মণ্ডপে মণ্ডপে এখন সাজ সাজ রব। দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে পূজামণ্ডপ পর্যন্ত সড়কগুলো বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে নজরকাড়া তোরণ।
শনিবার পঞ্চমীর সন্ধ্যায় বোধনের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আবাহন করা হয়। রোববার মহাষষ্ঠীতে আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে মাতৃরূপে দেবী মণ্ডপগুলোতে অধিষ্ঠিত হবেন। উৎসবকে ঘিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মৃণাল কান্তি দাশ মিলন জানান, এবার উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে মোট ১১২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে পদুয়া ইউনিয়নে ২০টি, আমিরাবাদে ৩০টি, কলাউজানে ২৪টি, চরম্বায় ১১টি, বড়হাতিয়ায় ১৫টি, পুটিবিলায় ৩টি, আধুনগরে ৩টি, চুনতিতে ৩টি এবং লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে ২টি মণ্ডপ রয়েছে।
তিনি বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা একটি সার্বজনীন উৎসব। এ উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনও আমাদের সার্বিক সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।”
পূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানিয়েছেন লোহাগাড়া থানার ওসি আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, “পূজার সময় যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে নির্ভয়ে পূজা উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।”
২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে, যা আগামী ২ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে।
