খাগড়াছড়িতে সহিংসতার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করল সেনাবাহিনী


খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছে সেনাবাহিনী। এদিকে, জেলা প্রশাসন সহিংসতার ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে।

চতুর্থ দিনের মতো অবরোধ ও ১৪৪ ধারার কারণে মঙ্গলবারও জেলা সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যান চলাচল সীমিত থাকায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ অভিযোগ করেন, “ইউপিডিএফ স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে সাধারণ পাহাড়ি নারী ও ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। এসব কর্মসূচিতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে দেশীয় ও অটোমেটিক অস্ত্র ব্যবহার করে ফায়ার করা হচ্ছে।”

তিনি ইউপিডিএফকে অবিলম্বে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

তদন্ত কমিটি ও প্রশাসনের উদ্যোগ

এদিকে, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার মঙ্গলবার দুপুরে গুইমারার সহিংসতাপূর্ণ রামেসু বাজার এলাকা পরিদর্শন করেন।

তিনি জানান, রোববারের সহিংসতার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রাণ তুলে দেন এবং নিহতদের পরিবারকে সহায়তা ও আহতদের সুচিকিৎসার আশ্বাস দেন।

এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, “অবরোধ আহ্বানকারীদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তাদের আটটি দাবির মধ্যে সাতটিই সমাধান করা হয়েছে। তারা যদি অবরোধ প্রত্যাহার করে, তবে আমরা ১৪৪ ধারা তুলে নেব।”

রোববারের সহিংসতা ও মামলা

উল্লেখ্য, এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ডাকা অবরোধ চলাকালে গত রোববার গুইমারার রামেসু বাজারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিতে তিনজন নিহত হন।

নিহতরা হলেন—আথুই মারমা (২১), আথ্রাউ মারমা (২২) ও তৈইচিং মারমা (২০)। সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর একজন মেজরসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করা হবে। নিহতদের পরিবার মামলা করতে না চাইলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।