
একসময় দালাল ছাড়া কাজ হতো না, পদে পদে গুনতে হতো ঘুষ—চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভূমি অফিস নিয়ে মানুষের মুখে মুখে ছিল এমন অভিযোগ। তবে সেই দিন বুঝি এবার শেষ হতে চলেছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়কে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, যার সুফলও মিলতে শুরু করেছে হাতেনাতে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও দালালদের হয়রানি বন্ধে এই উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন ভূমি কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো দালালদের আনাগোনা নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গতি বেড়েছে এবং সেবাগ্রহীতারা স্বস্তিতে নিজেদের কাজ সারছেন। এর আগে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে ক্যামেরা বসিয়ে সুফল পাওয়ায় ইউনিয়ন পর্যায়েও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হয়।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলামের নির্দেশে গত ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলা সদর, নাজিরহাট, ধর্মপুর, ভূজপুর, ছাড়ালিয়াহাট ও নারায়ণহাট ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। প্রতিটি অফিসের প্রবেশপথ, প্রধান কক্ষ এবং রেকর্ড রুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো এখন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকছে।

ধর্মপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে জমির নামজারি করতে আসা সমিতিরহাট গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “আগে এখানে কাজ করতে গেলেই দালালদের খপ্পরে পড়ে টাকা দিতে হতো। এখন ক্যামেরা থাকায় দালাল ছাড়াই সরাসরি কাজ করা যাচ্ছে। এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ।”
একই চিত্র দেখা যায় সদর ভূমি কার্যালয়েও। জমির বিরুদ্ধে একটি আপত্তির শুনানিতে অংশ নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, সিসি ক্যামেরা থাকায় এখন স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারছেন, যা আগে সম্ভব ছিল না।
ভূজপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারী মো. আলী বলেন, “সিসি ক্যামেরা লাগানোর পর থেকে বেআইনি দাবিদাওয়া ও দালালদের দৌরাত্ম্য প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি পুরোপুরি বদলে যাবে।”
এই উদ্যোগের মূল পরিকল্পনাকারী ফটিকছড়ি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ভূমি অফিস নিয়ে মানুষের নেতিবাচক ধারণা পাল্টাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখন আমি আমার কক্ষে বসেই ইউনিয়ন পর্যায়ের ছয়টি অফিসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারি। ফলে কর্মচারীরা কাজে ফাঁকি দিতে পারেন না বা টাকার জন্য কাউকে ভোগান্তিও করাতে পারেন না।”
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সিসি ক্যামেরাগুলো একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ভূমি প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, এর মাধ্যমে মানুষের হয়রানি কমবে এবং ভূমি অফিসের প্রতি তাদের আস্থা ফিরে আসবে।”
