
‘ফটিকছড়ি ছাড়বো না, উত্তরে যাবো না’—এই স্লোগানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউনিয়নে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলায় এই ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এরই মধ্যে তারা সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন এবং আগামী মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন।
সম্প্রতি সরকার ফটিকছড়ি উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু প্রস্তাবিত এই উপজেলার সঙ্গে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার একাংশকে যুক্ত করায় এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এলাকাবাসী।
তাদের প্রধান অভিযোগ, ভৌগোলিক দূরত্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনা না করে জনমতকে উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া, যিনি সুয়াবিলের বাসিন্দা, বলেন, “এ প্রস্তাব আইনসম্মত নয় এবং জনস্বার্থবিরোধী। কোনো ধরনের গণশুনানি না করেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সমাজসেবক মো. মহিউদ্দিন বলেন, “সুয়াবিল থেকে প্রস্তাবিত উপজেলার সদর দপ্তরের দূরত্ব ৪০-৪৫ কিলোমিটারের বেশি, অথচ বর্তমান উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
শিক্ষক বাবলা কুমার দে এবং অধ্যাপক মো. সোলায়মান উভয়েই সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এই অন্তর্ভুক্তিকে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর আন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠবে এবং প্রয়োজনে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
