নিয়ম ভেঙে ‘ভারপ্রাপ্ত’ নিয়োগ, সংকটে মোস্তাফিজুর রহমান কলেজ


চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা সদরের আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি উপেক্ষা করে গত এক বছরে তিনবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বদল করা হয়েছে। এর মধ্যেই নিয়ম লঙ্ঘন করে উপাধ্যক্ষ নিয়োগেরও চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অধ্যক্ষের পদ শূন্য হওয়ার ছয় মাস, বিশেষ প্রয়োজনে এক বছরের মধ্যে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমান কলেজে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। সর্বশেষ, কলেজ গভর্নিং বডি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমেই উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যা নিয়মের পরিপন্থী। গভর্নিং বডির বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও বিষয়টি রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক কার্যালয় গত ৬ আগস্ট কলেজটিতে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে গভর্নিং বডি ২০ আগস্ট গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইলিয়াছকে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর আগে গত ১৪ আগস্ট টানা ১২ বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় কলেজটির বিএসসি (পাস) কোর্স বাতিলের নির্দেশ দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গভর্নিং বডির একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, বিধিবহির্ভূত এসব সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে বা আপত্তি তুললে হুমকির মুখে পড়তে হয়। এ কারণে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিয়মিত অধ্যক্ষ না থাকায় কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ধীরগতি। এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূত পদায়নের কারণে প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব দেখা দিয়েছে।

কলেজের অধ্যাপক আহমদ কবির বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও একাডেমিক কার্যক্রমের গতিশীলতার জন্য নিয়মিত অধ্যক্ষ অপরিহার্য। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। গভর্নিং বডির উচিত দ্রুত স্থায়ী অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যবস্থা করা।

এসব বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মো. শফিক উদ্দিন বলেন, “আমরা শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কলেজের স্থিতিশীলতা আনতে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে।”

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।