
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি কবরস্থানকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার এক পক্ষ মানববন্ধন করেছে, অন্যদিকে অপর পক্ষ পাল্টা বক্তব্য দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
পৌরসভার ইছাখালী পশ্চিম পাড়ার একটি কবরস্থান নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার সকালে ইছাখালী সদরের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে ‘ইছাখালী পশ্চিম পাড়া সমাজ কমিটি’র ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই কবরস্থানটি নিয়ে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ও পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন শাহের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী হয়রানি করছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, এ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলার শিকার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার ৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা দেখিনি। আমি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ জানাই, যেন তিনি এই বিষয়ে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”
পাল্টা অভিযোগ
অন্যদিকে, মানববন্ধনের দিনই পাল্টা বক্তব্য দেন পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন শাহ। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এই কবরস্থান আমাদের দাদা খলিলুর রহমানের দান করা জমিতে স্থাপিত, যা আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি এবং জনসাধারণের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, মূল বিরোধ কবরস্থান নিয়ে নয়, বরং এর পাশের একটি পুকুর নিয়ে, যা তাদের পারিবারিক সম্পত্তি এবং জাহাঙ্গীরের পক্ষ সেটি দখলের চেষ্টা করছে।
হেলাল উদ্দিন শাহ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কাউকে মারধর করিনি। এটা নিছকই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাকে হেয় করার জন্য জাহাঙ্গীরকে দিয়ে এসব করানো হচ্ছে।”
উভয় পক্ষই নিজ নিজ অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়া বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও তীব্র হয়েছে।
