সিইপিজেডের আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৭ ঘণ্টা পর, ভবন ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা


চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) একটি সাততলা ভবনে লাগা ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ভবনটিকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর ভেতরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

শুক্রবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে লাগা আগুন শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে পুরোপুরি নেভাতে আরও সময় লাগবে এবং এখনো ১৭টি ইউনিট কাজ করছে।

তিনি বলেন, “ভবনটি বহুমুখী কাজে ব্যবহৃত হতো এবং ওপরের চারটি তলা গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সেখানে থাকা দাহ্য পদার্থ পুড়তে সময় লেগেছে। ভবনটি বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি না করায় ফায়ার ফাইটারদের ভেতরে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের বড় সাফল্য হলো, আগুন পাশের ভবনে সেভাবে ছড়াতে পারেনি। তবে মূল ভবনটির কাঠামো দুর্বল হয়ে গেছে, এটি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।” পরিচালক ইপিজেডের সব ভবন দ্রুত কমপ্লায়েন্সের আওতায় আনার পরামর্শ দেন।

ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যারা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সোবহান জানান, আগুন লাগার পরপরই প্রায় ৭০০ শ্রমিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, ” কিছুদিন আগেই শ্রমিকদের ফায়ার ড্রিল করানো হয়েছিল। ভবনটিও কমপ্লায়েন্সের আওতায় ছিল।”

আবদুস সোবহান আরও জানান, বেপজার পক্ষ থেকেও পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে সিইপিজেডের ‘অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ ও ‘জিহং মেডিকেল কোম্পানি’র গুদামে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মোট ২৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।