গেট পাস ফি প্রত্যাহার: বন্দরে পরিবহন ধর্মঘট উঠল, ‘মাশুল’ নিয়ে সিঅ্যান্ডএফের বিক্ষোভ চলছে


বর্ধিত গেট পাস ফি প্রত্যাহারের আশ্বাসে চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা। তবে সেবার মাশুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের চার ঘণ্টার আংশিক কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।

রোববার বিকেলে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থার অবসান ঘটে। বিকেল ৫টা থেকে কন্টেইনারবাহী যানবাহন বন্দরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

গেট পাস ফি ৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩০ টাকা করার প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু করেন পণ্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের কর্মসূচিতে বন্দরে পণ্য ডেলিভারি ও সারা দেশে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহমেদ বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে। গেট পাসের জন্য আগের হারেই চার্জ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে তারা। এজন্য ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি আমরা।”

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “সব পক্ষের সঙ্গে সফল আলোচনার পর আমরা নতুন গেট পাস ফি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এজন্য আমরা নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়কে প্রবেশ ফি কমানোর সুপারিশ করে চিঠি দেব। সংশোধিত হার চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী হারে ফি নেওয়া হবে।”

সিঅ্যান্ডএফের কর্মবিরতি অব্যাহত

পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও বন্দরের বর্ধিত সেবার মাশুল প্রত্যাহারের দাবিতে কাস্টমস এজেন্টদের আংশিক কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।

রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন কর্মবিরতি পালন করে। বর্ধিত মাশুল প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন চার ঘণ্টা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, “এই বিক্ষোভ সপ্তাহব্যাপী অব্যাহত থাকবে। আমাদের কর্মবিরতি বন্দরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমরা এখনও কাস্টমস হাউসে কর আদায় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছি। কিন্তু বন্দরে প্রতিদিন চার ঘণ্টা কোনো কাজ করব না।”

ব্যবসায়ীদের আপত্তি উপেক্ষা করে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বন্দরের নতুন মাশুলের গেজেট প্রকাশ করা হয়, যা ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। এতে বিভিন্ন সেবার মাশুল গড়ে ৪১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের এই কর্মসূচির বিষয়ে বন্দর সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “এটি বাতিলের পুরো এখতিয়ার আমাদের নেই। মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা সেটা মানতে বাধ্য।”

এর আগে শনিবার নগরীর নেভি কনভেনশন হলে এক প্রতিবাদ সভা থেকে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক আমীর হুমায়ূন মাহমুদ চৌধুরী সপ্তাহব্যাপী প্রতীকী কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে মাশুল স্থগিতের সিদ্ধান্ত না হলে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।