
সরকারি কেনাকাটায় অধিক স্বচ্ছতা আনা ও দুর্নীতি রোধে ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হলেও চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) তা মানা হচ্ছে না বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কারখানায় ই-জিপি পরিচালনায় পারদর্শী কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ টেন্ডার ‘সীমিত দরপত্র পদ্ধতি’ (এলটিএম) অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত নির্দিষ্ট পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ ই-জিপি পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে বিসিআইসি তথা সিইউএফএল কারখানার বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হতো।
সম্প্রতি ফায়ার হাইড্রেন লাইনের ৩৫টি ভাল্ব কেনার একটি স্থানীয় টেন্ডারকে কেন্দ্র করে এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ উঠেছে, সিইউএফএল কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্যিক) মো. কামরুল ইসলাম খন্দকার তার পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে বাৎসরিক তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ঠিকাদার মো. মুসা জিএম (বাণিজ্য) কামরুল ইসলাম খন্দকারের সাথে যোগসাজশে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে (মেসার্স আল ফাতিহা ট্রেডিং, মেসার্স শাহিন এন্ড সন্স, মেসার্স এস এফ ট্রেডিং, মেসার্স বিজ টেক ও মেসার্স আয়ান ট্রেডিং) টেন্ডার সিডিউল জমা দেন এবং সেগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়াও প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেন।
এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ঠিকাদার মো. মুসা টেন্ডার অনুমোদনের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কারণে এখন আমরা গা ঢাকা দিয়ে কাজ কাম করতে হচ্ছে।” তিনি এ বিষয়ে সামনাসামনি কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করে কাফকো সেন্টারে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে, যার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, সেই জিএম (বাণিজ্য) কামরুল ইসলাম খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সরাসরি এড়িয়ে যান এবং পরে অফিস সময়ে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে এ বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
টেন্ডার খোলার দায়িত্বে থাকা সীমান্ত কুমার দে দাবি করেন, ফায়ার হাইড্রেন ভাল্বের অনুমোদন নেওয়া হলেও টেন্ডার এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে একই ব্যক্তির পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নামে টেন্ডার জমা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এসব ব্যাপারে আপনি স্যারদের সাথে কথা বলেন।” তিনি এক প্রকার অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “অনেকের সাথে স্যারদের সম্পর্ক থাকে এতে লোকাল টেন্ডারে এসব হয়।” তবে তিনি আশ্বাস দেন, “আমরা শীঘ্রই ইজিপি পদ্ধতিতে চলে যাব তখন আর এসবের সুযোগ থাকবে না।”
এ বিষয়ে প্লান্ট মেইনটেন্যান্স শাখার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ মুন্তাসির মামুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, বিষয়গুলো জিএম (বাণিজ্য) দেখেন এবং এ নিয়ে তিনি কথা বলতে পারবেন।
পুরো বিষয়টি সিইউএফএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানকে অবগত করা হয়েছে। অভিযোগগুলো শোনার পর তারা উভয়েই বিষয়টি অবগত করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
