
মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা আরও ৪৬৯ একর জমি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে আবেদনটি করেন উপপরিচালক তাহসিন মুনাবিল হক।
দুদকের আবেদন সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে গাজীপুর সদরে ৮.৫৮ একর, গাজীপুরের শ্রীপুরে ৪.৮৬ একর, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ১৮০.২৮২১ একর, কক্সবাজার সদরে ২.১২ একর, কক্সবাজারের চকরিয়ায় ০.৯৬৭৫ একর এবং চট্টগ্রামে ২৭২.৬৮ একর জমি রয়েছে।
আবেদনে দুদক উল্লেখ করে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সত্তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব সম্পত্তির হস্তান্তর রোধে এগুলো জব্দের আদেশ দেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ১০৫টি কোম্পানির ৫১৩ কোটি ১৮ লাখ ৩২ হাজার ২৮২টি শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত। তার আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সাইফুল আলম, গ্রুপটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ ও পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেন আদালত। ৯ জুলাই এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের ৫৩টি ব্যাংকের হিসাবে থাকা ১১৩ কোটি ৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৬৮ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
গত ২৪ জুন সাইপ্রাসের লিমাসল জেলায় অবস্থিত সাইফুল আলমের একটি দুইতলা বাড়ি, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে হ্যাজেক ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেডে তাদের ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এবং পিকক প্রপার্টি হোল্ডিংসসহ ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে আরও ১৮টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া জার্সি ট্রাস্ট কোম্পানির অধীনে ছয়টি ট্রাস্টে থাকা বিভিন্ন অঙ্কের বিনিয়োগও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।
এরও আগে গত ২৩ এপ্রিল তার ৪০৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৫৯ একর জমি, ১৭ এপ্রিল দুই হাজার ৬১৯ কোটি সাত লাখ ১৬ হাজার টাকা থাকা এক হাজার ৩৬০টি ব্যাংক হিসাব, ১০ মার্চ এক হাজার ছয় বিঘা জমি এবং ৯ এপ্রিল ৯০ বিঘা জমি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একইদিন আদালত তার ঘনিষ্ঠজনদের নামে থাকা ৩৭৪টি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করেন।
এছাড়া চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি আট হাজার ১৩৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের শেয়ার, ১২ ফেব্রুয়ারি ৫ হাজার ১০৯ কোটি টাকা মূল্যের ৪৩৭ কোটি ৮৫ লাখের বেশি শেয়ার এবং ১৬ জানুয়ারি ৩ হাজার ৫৬৩ কোটি ৮৪ লাখ ২১ হাজার টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন একই আদালত। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ৩৬৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৩ হাজার পাঁচশো টাকা মূল্যের ১৭৫ বিঘা সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ৭ অক্টোবর এস আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ তার পরিবারের ১২ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
