একুশে পত্রিকায় সংবাদের পর পুলিশের দৌড়: ‘মামলা নিচ্ছি’, আটক ১


অবশেষে নড়েচড়ে বসল আনোয়ারা থানা পুলিশ। ‘সাপের মতো পিটিয়ে ভাইকে আইসিইউতে পাঠাল ভাই-ভাতিজা, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ (ভিডিও)’ শিরোনামে একুশে পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধান অভিযুক্ত আহমদ ছফাকে আটক করেছে পুলিশ।

তবে, এই বিচার যখন সবেমাত্র শুরু হলো, তখন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন নাজিম উদ্দীন। চিকিৎসকরাও তার স্ত্রীকে ‘আল্লাহকে ডাকতে’ বলেছেন, জানিয়েছেন নাজিমের অবস্থা সংকটাপন্ন।

শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগী নাজিমের বোন পারভিন আক্তার একুশে পত্রিকাকে জানান, “আমরা একুশে পত্রিকার সঙ্গে কথা বলার তিন ঘণ্টা পরই পুলিশ আমাদের ডেকেছে। তারা আমাদের সঙ্গে নিয়ে আসামি আহমদ ছফাকে আটক করেছে।”

পারভিন আক্তার আরও জানান, অভিযুক্ত রিটন (আহমদ ছফার ছেলে) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে। যে পুলিশ এতদিন মামলা নিতে গড়িমসি করছিল, তারাই এখন মামলা নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা একুশে পত্রিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা, আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। জিন্নাত আয়ুব ভাইয়ের এই নিউজের কারণেই আমরা বিচার পাওয়ার আশা দেখছি।”

একদিকে যখন আসামী আটকের স্বস্তি, অন্যদিকে তখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ভয়াবহ শঙ্কা। নাজিমের স্ত্রী মুক্তা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী নাজিমের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।”

তিনি বলেন, “চিকিৎসারাও বলছেন অবস্থা ভালো না, আল্লাহকে ডাকতে। আমি চোখে-মুখে সব অন্ধকার দেখছি। আমার স্বামী কি বিচার দেখে যেতে পারবে?”

উল্লেখ্য, গত রবিবার আনোয়ারার হাইলধর ইউনিয়নে গরু চোরের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নাজিম উদ্দীনকে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছিল তার আপন বড় ভাই আহমদ ছফা ও ভাতিজা রিটন। এই ভয়াবহ ঘটনার ভিডিও থাকার পরও আনোয়ারা থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ‘আদালতে যাওয়ার’ পরামর্শ দেয়।

আজ (শনিবার) বিকেলে একুশে পত্রিকায় জিন্নাত আয়ুবের করা এই নির্মমতা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রশাসন অভিযুক্তকে আটকের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।