চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের মুক্তি দাবিতে ডাকা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। তবে ওই শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে আমরা প্রায় ঘন্টাব্যাপি বৈঠক করেছি। স্যার আমাদের জানিয়েছেন, ‘সঠিক তদন্তের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তিনি কথা বলেছেন। যাতে সঠিক ঘটনা বের হয়ে আসে। নিরপরাধ ব্যক্তিরা যাতে হয়রানি না হয়, প্রকৃত অপরাধীরা যাতে শাস্তি পায়। তবে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলেও ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও কালো পতাকা মিছিলসহ নতুন কর্মসূচি পালন করা হবে।’
সোমবার দিয়াজ হত্যা মামলার আসামি সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে’ ক্যাম্পাসে লাগাতার অবরোধের ডাক দেয় ছাত্রলীগের এ অংশটি। মঙ্গলবার অবরোধের দ্বিতীয় দিনে কার্যত অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম।
ভোর ৪টার দিকে অবরোধকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলফটকে তালা ঝুলিয়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। ফলে ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষকদের আনতে যেতে পারেনি কোন শিক্ষক বাস। তবে সকাল ৮ টার দিকে পুলিশ গিয়ে মূলফটক খুলে দেয় এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়াও সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে ঝাউতলা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গামী ট্রেনটি পৌঁছালে একটি বগির হোস পাইপ কেটে দেয় অবরোধকারীরা। যার ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে ক্যাম্পাসে আসতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। অবরোধে কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী আসতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ/ইনিস্টিটিউটের ক্লাস-পরীক্ষা ছাড়াও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
অন্যদিকে আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর অনুসারিরা। দুপুর ২টার দিকে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে থেকে জিরো পয়েন্ট হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
