
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চুরির অভিযোগে স্থানীয় জনতা পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও ঘটনাটিকে ‘সাজানো’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। রোববার (২ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও অভিযোগকারী চুরির কোনো আলামত (প্রমাণ) দেখাতে পারেননি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা যায়, গত সপ্তাহে মো. ইসমাঈল নামে এক ব্যক্তির একাধিক ছাগল চুরি হয়। তিনি সন্দেহভাজন কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে মামুন নামের একজনকে পরিষদে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন এবং এ কাজে জড়িত আরও ১১ জনের নাম প্রকাশ করেন। সেই স্বীকারোক্তি মতে, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সহায়তায় নাজিম উদ্দিন সিকদার দুলাল, ফাহাদ হোসেন সম্রাট, উত্তম মালাকার, মুরাদ এবং মোহাম্মদ ইউসুফকে আটক করে পরিষদে আনা হয়। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
গ্রামের সিকদার বাড়ি সমাজের সর্দার সেলিম সিকদার বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দা আমান, শামশু, মামুনসহ কয়েকজনের ১১টি গরু চুরি হয়েছে। ইদানিং আমাদের এলাকায় গরু, ছাগল, মোটর, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন কিছু চুরি নিয়মিত ঘটনা। আমরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনা।” তিনি জানান, ইতোমধ্যে থানায় মামলা করেছেন এবং আটককৃতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, “এলাকায় চুরির ভয়ে রাতে মানুষ ঘুমাতে পারেন না। যাদের আটক করা হয়েছে এবং যারা এ ঘটনায় জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে মানুষ প্রশাসনের উপর আস্থা হারাবে।”
তবে, এই আটকের ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি এবং উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন।
নাজিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লিখেছেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ‘সাজানো’ এমন কাজ নিতান্তই দুঃখজনক। এভাবে চলতে থাকলে ‘আজ আমার; কাল আপনার’ এভাবেই হবে। যা মোটেই শুভলক্ষণ নয়। এটি জুলাই বিপ্লবের সাথে কখনো যায় না।”
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল হক বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। তবে, অভিযোগকারী চুরির কোনো আলামত দিতে পারেন নি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
