
“আমার আর এই দুনিয়ায় থাকতে ইচ্ছে করতেছে না। তাই আমি মরে যাচ্ছি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।”
মাত্র কয়েকটি শব্দ, কিন্তু তাতে মিশে আছে এক জীবনের সবটুকু হতাশা আর অভিমান। পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পূর্ব পাচুরিয়া তালুকদার বাড়িতে এই চিরকুটটিই হয়ে রইলো গৃহবধূ শেলি আকতারের (২৩) শেষ কথা।
রবিবার, ২ নভেম্বর সকালে, শেলি আকতারের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয় তার স্বামীর বাড়ির নিজ কক্ষ থেকে। তিনি ওই বাড়ির ফাহিম মোহাম্মদ সৌরভের স্ত্রী এবং জিরি মালিয়ারা গ্রামের আবদুল হকের মেয়ে। লাশের পাশেই পড়ে ছিল হাতে লেখা সেই চিঠি, যা একাধারে তার স্বেচ্ছামৃত্যুর ঘোষণা এবং এক মায়ের শেষ আকুতি।
পৃথিবীর প্রতি সব ইচ্ছে ফুরিয়ে গেলেও, মৃত্যুর আগেও শেলি আকতারের মন পড়ে ছিল তার সন্তানদের কাছে। চিঠির শেষ অংশে তিনি লিখে যান: “আমার শুধু একটাই ইচ্ছা-মৃত্যুর পর আমার ছেলে-মেয়েকে আমার আম্মুর কাছে দিয়ে দিবে। এটা আমার ইচ্ছে।”
কেন মাত্র ২৩ বছর বয়সেই পৃথিবী এত অসহ্য হয়ে উঠলো দুই সন্তানের জননী শেলি আকতারের কাছে? কেন ফাহিম মোহাম্মদ সৌরভের সংসারে থেকে সন্তানদের ছেড়ে যাওয়ার মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি? চিরকুটে “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না” লেখা থাকলেও, এই শব্দগুলোই যেন এক অব্যক্ত যন্ত্রণা আর গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
খবর পেয়ে পটিয়া কালারপোল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবদুল বাতেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি শেলি আকতারের লেখা বলেই পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে এবং এটি ধরেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পেছনের প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একটি নিথর দেহ, একটি রহস্যময় চিরকুট আর দুটি এতিম সন্তানের ভবিষ্যৎ—এই সব নিয়েই পাচুরিয়া তালুকদার বাড়িতে এখন কেবলই শূন্যতা আর হাহাকার।
