
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। গত অক্টোবর থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত প্রায় এক মাসের মধ্যে হাতুড়ির আঘাত, প্রতিপক্ষের হামলা ও চুরির অপবাদে মারধরের ঘটনায় এই তিনজন নিহত হন।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও পুলিশের গাফিলতির পরিচায়ক। তবে পুলিশ এই দাবি নাকচ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে।
হত্যাকাণ্ড ছাড়াও উপজেলায় ছিনতাই, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অপমৃত্যুসহ নানা অপরাধ বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন মো. ইউনুছ (৩৫)। তিনি উপজেলার হাজিগাঁও কর্ণফুলী কটন মিল এলাকার এয়াকুব আলীর ছেলে এবং পেশায় দিনমজুর ছিলেন। গত ৬ অক্টোবর রাতে মাথার আঘাত নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
দ্বিতীয় ঘটনায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হওয়ার ১৭ দিন পর শওকত আলী (৩৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। গত ১৭ অক্টোবর তৈলারদ্বীপ এলাকায় শওকত আলীর ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় তার স্ত্রী মিনু আক্তারের গলার স্বর্ণের চেইনও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে শওকত মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মিনু আক্তার বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত ২ নভেম্বর নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
সর্বশেষ, গত ২৬ অক্টোবর গরু চুরির অপবাদ দিয়ে আনোয়ারা হাইলধর এলাকায় নাজিম উদ্দীন নামে এক ব্যক্তিকে তার আপন ভাই ও ভাতিজারা মারধর করে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ নভেম্বর নাজিম উদ্দীন মারা যান।
আনোয়ারা থানার ওসি মনির হোসেন বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, আনোয়ারায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু রাখতে পুলিশ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে কাজ করে যাচ্ছে এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।
তবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর চট্টগ্রাম সভাপতি ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর সিকান্দার খান বলেন, একটি উপজেলায় এক মাসে তিনটি খুনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, এটি অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এবং তা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যর্থতার পরিচায়ক। তার মতে, এক মাসে একাধিক খুনের ঘটনাকে আইনের শাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয় এবং এই ধরনের ঘটনা পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, যে খুনগুলো হয়েছে সবকটির পুলিশ মামলা নিয়েছে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উপজেলায় নজরদারি ও তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
