
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ডিরি)-এর যৌথ উদ্যোগে ১৮ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে ‘সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী স্মৃতি বৃত্তি ও সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী গবেষণা বৃত্তি’ প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালে ঢাবি’র কলা ভবনের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের টি এ গাঙ্গুলি লাইব্রেরি অব ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়নে এই বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে পিএইচ.ডি, এম.ফিল, এম.এ রিসার্চ মনোগ্রাফ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ মোট ১৮ জনকে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার গবেষণা অনুদান ও বৃত্তি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ২ জন পিএইচ.ডি গবেষক, ১ জন এম.ফিল গবেষক, ২ জন এম.এ রিসার্চ মনোগ্রাফ এবং ১৩ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পান।
বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ কাউসার মোস্তফা আবুলউলাইয়া এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (ডিরি)’র ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহজাদা সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী। অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আজহারুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ডিরি’র এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “আমরা এমন এক সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম ও চিন্তাধারার মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান করবে। একটি সুফি দরবার হয়েও ডিরি যে একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা ধর্মীয় সীমারেখা অতিক্রম করে মানবিক মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠিত করছে। এ ধরনের কাজ শুধু সুফি ঐতিহ্যের নয়, বরং আধুনিক জ্ঞানচর্চারও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”
দারুল ইরফান রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহজাদা সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী ডিরি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “সুফিজমকে প্রমোট করার জন্য এবং এর গবেষণাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দারুল ইরফান রিসার্চ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সুফিজমের গবেষণার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাবিতে এম.ফিল, পিএইচডি গবেষণা বৃত্তি এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সুফিজমের মূলমন্ত্রই হল মানুষের আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়ন। সুফিজম চর্চার মাধ্যমে যাতে মানবতা জাগ্রত হয়, আমরা সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছি।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম ডিরি’র এই মহতী উদ্যোগের প্রতি সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, মাইজভাণ্ডারী আধ্যাত্মিক ধারা বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে মানবতা, সহনশীলতা ও নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তরুণ গবেষকদের মাঝে এই বৃত্তি প্রদান আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক গবেষণায় অগ্রসর হতে তাদের অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে, প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের হাতে স্মৃতি বৃত্তি ও গবেষণা বৃত্তির চেক তুলে দেন।
