ভুয়া ঠিকানায় এনআইডি: চট্টগ্রামের সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা, চসিক কর্মচারীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা


ভুয়া ঠিকানা ও জাল নথি ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির মতো গুরুতর অভিযোগে চট্টগ্রামের সাবেক এক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের সহকারী পরিচালক অংটি চৌধুরী বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন—ভুয়া তথ্যে এনআইডি গ্রহণকারী আবদুল জলিল, চট্টগ্রাম বন্দর থানার সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের সাবেক জন্মনিবন্ধন সহকারী পিন্টু কুমার দে।

দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বিবরণে এই জালিয়াতির একটি চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রধান আসামি আবদুল জলিল নিজেকে কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীর বাসিন্দা দাবি করলেও তার স্বপক্ষে কোনো জাতীয়তা সনদ, জন্মসনদ বা বৈধ নাগরিকত্বের কোনো রেকর্ডই পাওয়া যায়নি। এমনকি, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে তার বাবা-মা মারা গেছেন বলে দাবি করলেও তিনি কোনো মৃত্যু সনদ দেখাতে পারেননি।

দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, এই ‘অস্তিত্বহীন’ ব্যক্তির ভুয়া সনদ তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপে সহায়তা করেন চসিকের কর্মচারী পিন্টু কুমার দে। অভিযোগ করা হয়, পিন্টু কুমারের যোগসাজশেই আবদুল জলিল ২০১১ সালের ২২ জুলাই ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ড থেকে একটি জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও জন্মনিবন্ধন সহকারীর সই জাল করে আরও একটি জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করা হয়।

এই জাল জন্মসনদকেই ‘আসল’ হিসেবে ব্যবহার করে জালিয়াতির দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত ধাপটি সম্পন্ন করেন তৎকালীন নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম।

মামলায় আশরাফুলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি ওই জাল জন্মসনদ ব্যবহার করেই আবদুল জলিলকে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিয়েছেন। এই বেআইনি কাজটি সারতে আশরাফুল তার কার্যালয়ে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ল্যাপটপ ব্যবহার করেন এবং নির্বাচন কমিশনে কোনো ধরনের রেকর্ডপত্রও জমা দেননি।

এই জালিয়াতির প্রক্রিয়ায় একাধিক বড় অসঙ্গতিও তুলে ধরা হয়েছে। জলিলের ভুয়া জন্মসনদে ঠিকানা হিসেবে কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডী উল্লেখ থাকলেও তার জাতীয় পরিচয়পত্রে ঠিকানা দেখানো হয় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা। তদুপরি, জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন ফরমের ৪৬টি ঘর পূরণ করার নিয়ম থাকলেও আসামি জলিলের ফরমের বেশিরভাগ ঘরই ফাঁকা রাখা হয়েছিল, যা কর্মকর্তা আশরাফুল জেনেশুনেই অনুমোদন দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।