ইকামত শেষ, নামাজ শুরুর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ইমাম


আঁধারের বুক চিরে ভেসে আসা আজানের ধ্বনি নয়, তখন ছিল পড়ন্ত বিকেলের শান্ত পরিবেশ। আসরের নামাজের সময়। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ৯নং ওয়ার্ডের নানু রাজা জামে মসজিদ (প্রকাশ মিঞা বাড়ি জামে মসজিদ) তখন মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পূর্ণ।

প্রতিদিনের মতোই, নামাজের প্রস্তুতির সব আয়োজন সম্পন্ন। মোয়াজ্জিন সবেমাত্র ‘ইকামত’ শেষ করেছেন। মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে, ইমামের কণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবার’ তাকবির শোনার অপেক্ষায়।

সবার সামনে জায়নামাজে ইমাম মাওলানা মো. এমরান (৫২)। তিনি হয়তো তাকবির বলবেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটলো এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। মুসল্লিদের অপেক্ষায় রেখে, দাঁড়ানো অবস্থা থেকেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।

নামাজ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ইমামের এই আকস্মিক পতনে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন মুসল্লিরা। মুহূর্তেই তারা নামাজ ছেড়ে ছুটে যান প্রিয় ইমামকে বাঁচাতে। ধরাধরি করে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে তিনি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।

এই মর্মান্ত্রিক ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১২ নভেম্বর) আসরের নামাজের সময়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ছাইফুল হক জানান, ইমাম ঢলে পড়ার পর মুসল্লিরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে মোয়াজ্জিন আসরের ফরজ নামাজ শেষ করেন।

মাওলানা মো. এমরানের এই আকস্মিক প্রস্থান কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। তিনি শুধু একজন ইমাম ছিলেন না, ছিলেন এই এলাকার দীর্ঘদিনের অভিভাবক।

চট্টগ্রামের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির রেজিস্টার ও মিঞা বাড়ি জামে মসজিদ মোতোয়াল্লি পরিবারের সদস্য এ.এফ.এম মোদোচ্ছের আলী বলেন, “তিনি প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের মসজিদে খতিব এবং ইমামতি করছেন। বুধবার আসরের নামাজ পড়ানোর আগ মুহূর্তে তিনি ঢলে পরে গেলে আকস্মিক তার মৃত্যু হয়।”

ইমামতির পাশাপাশি মাওলানা এমরান একটি বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলি গ্রামে। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।

যে মানুষটির কণ্ঠে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে মুসল্লিরা তাকবির শুনেছেন, তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো বড়লিয়া এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

বুধবার বাদ এশা বড়লিয়া ছালামিয়া দরবার শরীফ মাঠেই তারঁ প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে তার গ্রামের বাড়ি আনোয়ারাতে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।