মাস্টারের মৃত্যুতে ‘অফিসহারা’ জাপা, দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ে ঝুলছে তালা


একসময়ের রাজনৈতিক কেন্দ্র পটিয়া বাসস্টেশন এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়টি এখন ‘ভূতুড়ে ঘরে’ পরিণত হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক উপদেষ্টা ও দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার শামসুল আলমের মৃত্যুর পর থেকেই এই রুগ্ন দশা শুরু হয়। ২০২২ সালের ১৩ জুলাই শামসুল আলম মাস্টারের মৃত্যুর পর এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পটিয়ায় দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে, তালা ঝুলছে জেলা কার্যালয়ে।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা একসময় জাতীয় পার্টির শক্তিশালী সাংগঠনিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এর মূলে ছিলেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার শামসুল আলম। তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা ও দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন। শামসুল আলম মাস্টার পটিয়া পৌরসভার সাবেক তিনবারের নির্বাচিত মেয়র এবং ১৯৮৭ সালে ১৪নং ভাটিখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই দীর্ঘ সময় ধরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার কার্যক্রম পটিয়া থেকে পরিচালিত হতো।

সরেজমিনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া পৌরসদরের বাসস্টেশন এলাকায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার জাতীয় পার্টির অফিসে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ভবনটির রুগ্ন চেহারা এবং সেটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। অফিসের চারিদিকে ময়লার স্তূপ জমে এ যেন এক ভূতুড়ে ঘরে পরিণত হয়েছে।

ভবনের পাশের এক স্থানীয় দোকানদার জানান, শামসুল আলম মাস্টার জাতীয় পার্টি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার হর্তাকর্তা ছিলেন। তিনি না থাকায় তার সংগঠনটি আর কেউ দেখে না এবং দীর্ঘদিন ধরে অফিসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

মূলত বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী হিসেবে থাকার কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টিও মাঠের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এরপর থেকে চট্টগ্রামে দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক তৎপরতাও তেমন দেখা যায়নি।

বর্তমানে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত নেতারা অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন। শামসুল আলম মাস্টারের মৃত্যুর পর কমিটি বিলুপ্ত হয়ে নতুন কমিটি হয়। নতুন কমিটিতে দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন নুরুচ্ছফা সরকার এবং সদস্য সচিব রয়েছেন আবদুস ছত্তার রনি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী খোরশেদ আলম বলেন, শামসুল আলম মাস্টারের মৃত্যুর পর নতুন কমিটি গঠিত হলে পটিয়া অফিসে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, শামসুল আলম মাস্টারের নিজস্ব সম্পত্তি ছিল পটিয়া অফিসটি।

পটিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. খোরশেদ আলমও জানান, এটি শামসুল আলম মাস্টারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হওয়ায় তারা সেখানে সাংগঠনিক কাজ বন্ধ রেখেছেন। মো. খোরশেদ আলম বলেন, “আমরা বাইরে (নিজ অফিসে) ভ্রাম্যমান অফিসে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছি। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটিয়ায় নতুন অফিস নেওয়ার ব্যাপারে চিন্তা করা হবে।”

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক নুরুচ্ছফা সরকারও নিশ্চিত করেন, শামসুল আলম মাস্টারের নিজস্ব সম্পত্তি হওয়ার কারণেই সেখানে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, দলীয় কোনো টানাপোড়েন নেই এবং তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম শহরের জেলা পরিষদ মার্কেটের অফিসে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।