আনোয়ারায় নিজামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল


চট্টগ্রামের আনোয়ারায় (চট্টগ্রাম-১৩) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আনোয়ারা-কর্ণফুলী পিএবি সড়কে সরোয়ার জামাল নিজামের কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং সড়ক অবরোধ করে।

বিক্ষোভকারীরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীনের অনুসারী বলে জানা গেছে, যিনি নিজেও এই আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় কর্ণফুলী-আনোয়ারা পিএবি সড়কের কালাবিবির দিঘি মোড় থেকে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে কর্ণফুলী টানেলের মুখে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় নেতাকর্মীরা কিছুক্ষণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং সরোয়ার জামাল নিজামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। অবরোধের কারণে সড়কে প্রায় ২০ মিনিট যানচলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

মিছিল পরবর্তী এক সভায় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজাম দলের ‘দুর্দিনে’ কখনও তৃণমূলের পাশে দাঁড়াননি বা নেতাকর্মীদের খোঁজ নেননি।

তারা বলেন, “যখন আওয়ামীলীগের সীমাহীন দমন-পীড়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া ও ফেরারি জীবনযাপন করছিলেন, তখন তিনি নিশ্চিন্তে পরিবার পরিজন নিয়ে বিলাসিতায় সময় কাটিয়েছেন।”

বিক্ষুব্ধ নেতারা বলেন, “দলের জন্য নিবেদিত, সৎ, পরিশ্রমী ও ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করায় বিএনপির আপামর কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আজকের মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে সেই ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে।”

তারা এক কণ্ঠে দাবি জানান, “আমাদের প্রাণের দাবি দেশনায়ক তারেক রহমান দলের স্বার্থে, তৃণমূলের স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থে চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে ঘোষিত মনোনয়ন অবিলম্বে বাতিল করবেন। অন্যথায় এ আসনটি ধানের শীষের জন্য চিরতরে হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।”

সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা রফিক ডিলার, আবুল কাসেম, মোস্তাক আহমেদ, জামাল হোসেন, মুজিব, জীবন, মো. মারুফ, মো. ইমন, আবু কালাম, মো. তারেক, এরশাদ, শফিউল, ইউচুপ, এরফানুর রশীদ, রুবেল, মো. আবছার, হাসান, মহিউদ্দিন, তৌহিদ, নয়ন, মালেক, শামসুল, দস্তগীর এবং হোসেন প্রমুখ।

আনোয়ারা থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, “বিএনপির একাংশ মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করে। এসময় কিছুসময় যানজট সৃষ্টি হয়। পরে মিছিল শেষ হয়ে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কোনো বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, তার জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।”