
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক—এই নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মেঘে ঢাকা পাহাড় আর প্রকৃতির অমোঘ আকর্ষণের ছবি। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে ৭ নং ওয়ার্ডের দুর্গম ভুয়াছড়ির মতো প্রত্যন্ত জনপদ, যেখানে নাগরিক সুবিধার চেয়ে বিচ্ছিন্নতাই যেন বেশি।
এই সুবিধা বঞ্চিত পাহাড়ি শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে সম্প্রতি সেখানে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে হাজির হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট সেনা জোন।
পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতায়, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন বাঘাইহাট জোন এই কর্মসূচি পরিচালনা করে। শিশুদের হাতে শুধু স্কুল ব্যাগ, বই, খাতা, কলম আর পেন্সিলই তুলে দেওয়া হয়নি, তাদের শৈশবকে আরও রঙিন করতে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী। একইসাথে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আয়োজন করা হয় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার।
বাঘাইহাট সেনা জোন সূত্রে জানা যায়, ভুয়াছড়ি একটি অত্যন্ত দুর্গম ও সুবিধা বঞ্চিত এলাকা। এখানকার শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা বাড়ানো এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্যমতে, পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে শুধু নিরাপত্তাই নয়, এই দুর্গম এলাকাগুলোতে নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ভুয়াছড়ি এলাকায় আরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিমত, নিরাপত্তা বাহিনীর এই শিক্ষা উপকরণ বিতরণের ফলে পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র অভিভাবকদের আর্থিক কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে, বাঘাইহাট জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর এম এম জিল্লুর রহমান স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রসারের বিষয়ে আলোচনা করেন।
শুধু শিক্ষা নয়, বাঘাইহাট জোন আগামীতে খেলাধুলার উন্নয়ন ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে। নিরাপত্তা বাহিনী বিশ্বাস করে, এই শিশুদের সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে, আগামী প্রজন্ম শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে—এই প্রত্যন্ত ভুয়াছড়ি থেকেই।
