হালদায় অবৈধ বালু উত্তোলন: যুবককে কারাদণ্ড, দুটি গাড়ি জব্দ


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবৈধ বালি উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় এক যুব সংগঠকের ওপর হামলার পরদিনই অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব-সুয়াবিল এলাকার হালদা নদীতে এই অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসময় বালু পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি গাড়িও জব্দ করা হয়।

এর আগে, শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে ওই একই এলাকায় অবৈধভাবে বালু পাচার ও ভারী জিপ চলাচলে সড়ক নষ্ট করার প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আবুল ফয়েজ তুহিন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আবুল ফয়েজ তুহিনের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে ওই এলাকায় সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন উপজেলা ছাত্রসেনা, যুবসেনা ও স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা। খবর পেয়ে স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং অবৈধভাবে বালু পরিবহনের কয়েকটি গাড়ি আটক করেন।

পরে সেখানে ছুটে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম মো. নজরুল ইসলাম। তিনি হালদা নদীর পাড় থেকে এক যুবককে আটক করেন। আটক যুবক হালদা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কথা স্বীকার করলে মো. নজরুল ইসলাম তাকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনে কাজে ব্যবহৃত গাড়ি দুটি জব্দ করে প্রশাসনের জিম্মায় নেওয়া হয়।

এদিকে, মানববন্ধনে বক্তারা যুবসেনা সংগঠক আবুল ফয়েজ তুহিনের ওপর হামলাকারীদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা অবিলম্বে ওই ‘মাটি খেকো, বালু খেকো দস্যুদের’ আইনের আওতায় আনা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।” মো. নজরুল ইসলাম আরও জানান, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত আবুল ফয়েজ তুহিনকে তারা থানায় মামলার পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে।