‘গাইড’ ছাড়াই ‘নিষিদ্ধ’ নাফাখুমে, ঝরনায় তলিয়ে গেল ঢাকার তরুণ


বান্দরবানের থানচি উপজেলার নাফাখুম ঝরনায় গোসল করতে নেমে ইকবাল হোসেন (২৫) নামে এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ঢাকার ডেমরা এলাকার এই তরুণ পর্যটকদের একটি দলের সঙ্গে নাফাখুমে গিয়েছিলেন।

আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) বেলা একটা পর্যন্ত ওই পর্যটকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ ইকবাল হোসেনের পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ি ঢাকার ডেমরার রসুলনগরে। তার বাবার নাম মফিজুল ইসলাম ও মায়ের নাম রাশিদা বেগম।

উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার সকালে আলীকদম ও তিন্দু হয়ে ইকবাল হোসেনসহ ১৭ জনের একটি দল নাফাখুমে পৌঁছান। সারা দিন থাকার পর বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁরা সবাই ঝরনায় গোসলে নামেন। একপর্যায়ে ইকবাল হোসেন ঝরনার পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। তাকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে।

জানতে চাইলে থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মজুমদার বলেন, ১৭ জন পর্যটকের অন্য ১৬ জন উপজেলা সদরে ফিরে এসেছেন। ইকবাল হোসেনের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানানো হয়েছে।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, ‘পর্যটকেরা প্রশাসনকে অবহিত করে সেখানে যাননি। এমনকি সঙ্গে স্থানীয় কোনো ট্যুরিস্ট গাইডও নিয়ে যাননি। ঢাকা থেকে আলীকদম ও তিন্দু হয়ে সরাসরি নাফাখুমে গিয়েছেন।’

মো. আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল জানান, প্রশাসন কেবল তিন্দু বড় পাথর পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। রেমাক্রি ও নাফাখুমে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তিনি বলেন, “ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকা জায়গায় তাঁরা কীভাবে গেলেন, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

২০২২ সালের ২০ অক্টোবর রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। ওই বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এই তিন উপজেলায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামের একটি সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা বাড়তে থাকে এবং তাদের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার যোগাযোগের অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালের ৯ অক্টোবর থেকে যৌথ বাহিনী কেএনএফ ও শারক্বীয়ার জঙ্গিদের দমনে অভিযান শুরু করলে নিরাপত্তার কারণে ২০ অক্টোবর থেকে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

পরে ধাপে ধাপে কয়েকটি এলাকায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রোয়াংছড়ির দেবতাখুম পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। গত ৬ জুন থেকে রুমা উপজেলার বগা লেক, থানচি উপজেলার তুমাতঙ্গি ও তিন্দু পর্যন্ত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। পরে রুমার কেওক্রাডংও খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে রেমাক্রি ও নাফাখুমে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ রয়েছে।