সাইবার অপরাধে শীর্ষে ‘আর্থিক প্রতারণা’, মূল টার্গেট এখন অর্থ


প্রযুক্তির অগ্রগতি জীবনকে সহজ করলেও বাড়িয়েছে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে আর্থিক প্রতারণা।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সাইবার অপরাধীদের মূল লক্ষ্য এখন আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয়, বরং ভুক্তভোগীর অর্থ চুরি বা মুক্তিপণ আদায়। গত ছয় মাসে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে (সিপিসি) জমা পড়া ৩ হাজার ৭৬৬টি অভিযোগের মধ্যে ১ হাজার ৮১৩টিই অনলাইনে আর্থিক প্রতারণার ঘটনা।

সিআইডির পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই আর্থিক প্রতারণার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৪৩ জন প্রতারিত হয়েছেন ই-কমার্স মাধ্যমে। এরপরই রয়েছে ‘ইনভেস্টমেন্ট ট্র্যাপ’ (বিনিয়োগের ফাঁদ), যাতে পড়েছেন ৫৪৪ জন। এছাড়া লোনের ফাঁদে ৬৪ জন, সেবা নিতে গিয়ে ট্র্যাপে ১১৫ জন, এনআইডি ইস্যুতে ১৭ জন এবং ফ্রিল্যান্সিং সংক্রান্ত কাজে ১৩ জন অর্থ খুইয়েছেন।

আর্থিক প্রতারণার পরই রয়েছে অনলাইনে হয়রানির অভিযোগ। গত ছয় মাসে সিপিসিতে ৯৫৪ জন এ সংক্রান্ত অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে পোস্ট, মেসেজ ও ছবি-ভিডিওর মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন ৮০২ জন। এছাড়া মিথ্যা তথ্যে ৬১ জন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রচারে ১২ জন এবং অন্যান্যভাবে ৭৯ জন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী হয়েছেন ২৮২ জন, ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন ১৯৭ জন, সিম ক্লোনিংয়ের শিকার হয়েছেন ১৬৫ জন এবং অন্যান্য বিষয়ে ১৮২টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) জসীম উদ্দিন খান জানান, গত জুন থেকে সিপিসিতে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৫ জনের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৫৫২ জনকে সমস্যার সমাধানে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিআইডির এই কার্যক্রম ২০২০ সাল থেকে সার্বক্ষণিক চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯৬ জন সংস্থাটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও হটলাইনে অভিযোগ করেছেন।

এদিকে, আমেরিকান সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ম্যান্ডিয়ান্টের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ৫৫ শতাংশ সাইবার হামলাই হয়েছে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানগুলোর এখনই উচিত নানা উৎস থেকে নিয়মিত হুমকি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা।