
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের তালিকায় উচ্চশিক্ষিতদের প্রাধান্য দেখা গেছে, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির ঘোষিত ২৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮৫ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারী ব্যক্তি রয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত দুজন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ‘আইভি লিগ’ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং প্রায় ১৪ শতাংশ বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪০ শতাংশ প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর অধিভুক্ত কলেজগুলোতে পড়াশোনা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তার প্রতি সম্মান জানিয়েই বিএনপি উচ্চশিক্ষিতদের মনোনয়নে প্রাধান্য দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, “জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে উচ্চশিক্ষিতদের প্রার্থী করেছে বিএনপি। উচ্চশিক্ষিত হয়ে যদি জাতির প্রতি অঙ্গীকার থাকে এবং জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করে, তাহলে সেটিকে সাধুবাদ জানাই। তবে এটিও খেয়াল রাখতে হবে- শুধু উচ্চশিক্ষিত হলেই হবে না, জনগণ বা সমাজের জন্য কমিটমেন্ট থাকতে হবে। কারণ, রাজনীতির উদ্দেশ্যই হলো জনগণের মঙ্গল তথা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করা।”
বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত ২২৩ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৮৭ জন স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। স্নাতক ডিগ্রিধারীদের প্রায় ২০ শতাংশ আইন বিষয়ে, ১৬ শতাংশ বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে এবং ১৮ শতাংশ ব্যবসায় শিক্ষায় পড়াশোনা করেছেন। শুধু স্নাতক সম্পন্ন করা প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত আটজন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেছেন।
তালিকায় পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা-১), যিনি যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে পিএইচডি করেছেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান (নরসিংদী-২) যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন।
তালিকায় ১১ জন ডাক্তারও রয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইউরোলজিস্ট ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স থেকে এফআরসিপি সম্পন্ন করেন। সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে লড়বেন জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. এমএ মুহিত, যিনি লন্ডন স্কুল অব হাইজিন ও ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। শেরপুর-১ আসন থেকে ২০১৮ সালের মতো এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. সানসিলা জেবরিন।
প্রকৌশলীদের মধ্যে রয়েছেন বুয়েট থেকে পাশ করা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার ও বুয়েট গ্র্যাজুয়েটস ক্লাবের বর্তমান সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব এবং রুয়েট থেকে পাশ করা আশরাফ উদ্দিন বকুল।
বিএনপির প্রার্থী তালিকায় ‘আইভি লিগ’ অ্যালামনাইও রয়েছেন দুজন। কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে লড়বেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থনীতিবিদ ড. ওসমান ফারুক, যিনি আইভি লিগের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন। পঞ্চগড়-১ আসন থেকে লড়বেন ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির, যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি এবং আইভি লিগের অন্তর্গত হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে এলএলএম সম্পন্ন করেছেন।
বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, স্নাতক-পরবর্তী ডিগ্রি নেওয়া একশ প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই তালিকায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সালাহউদ্দিন আহমদ রয়েছেন।
এছাড়া রয়েছেন ছাত্রদলের একঝাঁক সাবেক নেতা, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, নুরুল ইসলাম নয়ন, শহীদুল ইসলাম বাবুল, রাজিব আহসান ও কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।
