মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীকে ‘মাসব্যাপী’ দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ


চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মানসিক ভারসাম্যহীন ২৪ বছর বয়সী এক তরুণীকে প্রায় এক মাস ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণী নির্যাতনের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি জানার পর রবিবার (১৬ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে মানসিক প্রতিবন্ধী এই তরুণীকে গ্রামে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তবে তিনি কোথা থেকে এসেছেন বা তার পরিচয় কেউ জানে না। স্থানীয়রা কয়েকদিন ধরে তরুণীটি ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন বলে জানতে পারেন। এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারকে অবহিত করা হয়।

পরে ইউএনও তাহমিনা আক্তার ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আনোয়ারা প্রধান সমন্বয়কারী লায়ন মোহাম্মদ উল্লাহ মাহমুদের সহায়তায় রবিবার ওই তরুণীকে উদ্ধার করে প্রথমে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়, পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারের নির্দেশনায় ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

এনসিপি’র আনোয়ারা উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী লায়ন মোহাম্মদ উল্লাহ মাহমুদ জানান, “স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরে ইউএনও’কে অবহিত করি। পরে প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার করে প্রথমে আনোয়ারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়। এমন জঘন্য কাজের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক।”

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী জানান, দুপুরে মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমরা পরে তাকে পুলিশের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠিয়েছি।”

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, “স্থানীয়রা আমাকে বিষয়টি জানালে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলেছি এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।