
পারিবারিক ছয় বিঘা জমিতে আদা চাষ করেছিলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই গ্রামের কৃষক আবদুল জব্বার। ভালো ফলন আসায় এবার প্রায় ৪০০ মণের বেশি আদা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।
জব্বার জানান, আদা চাষের শুরু থেকে ফলন আসা পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার মতো আরও অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে আদা চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে মনে করেন এই কৃষক।
২০১৪ সাল থেকে আদা চাষের সঙ্গে যুক্ত আবদুল জব্বার জানান, আদা রোপণ থেকে ফলন পর্যন্ত ১৪০ থেকে ১৫০ দিন সময় লাগে। গত শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) থেকে তিনি আদা তোলা শুরু করেছেন এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শের পাশাপাশি তিনি বেসরকারি ব্যাংক ইউসিবি থেকে ঋণ সহায়তা নিয়েছেন।
দেশে প্রতি বছর তিন লাখ মেট্রিক টন আদার চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হয় মাত্র ৮০ হাজার মেট্রিক টন। বাকি প্রায় দুই লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন আদা আমদানি করতে হয়। জব্বার বলেন, আদা চাষে সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়ানো প্রয়োজন।
পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পটিয়ায় ৪৪ হেক্টর জমিতে আদা চাষাবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৮ মেট্রিক টন হিসাবে প্রায় ৩৫২ মেট্রিক টন আদা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার কচুয়াই, খরনা, হাইদগাঁও ও কেলিশহর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় আদার চাষ হয়ে থাকে। কৃষি বিভাগ উদ্যোক্তাদের আদা চাষে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছে।
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) পটিয়া শাখার কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, ব্যাংক থেকে উদ্যোক্তা কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহজ শর্তে হিসাব খুলে জামানতবিহীন ও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষি, পোল্ট্রি ও মৎস্য খাতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাশাপাশি বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হচ্ছে। জব্বারের মতো স্বাবলম্বী হতে যারা এগিয়ে আসবেন, ব্যাংক তাদের পাশে থাকবে।
