এস আলম সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, পটিয়ায় এনামের মনোনয়ন ঠেকাতে কেন্দ্রে চিঠি


চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী এনামুল হক এনামের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছেন চার জ্যেষ্ঠ নেতা। চিঠিতে এনামের বিরুদ্ধে দেশের আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে ওই চার নেতার স্বাক্ষরিত চিঠিটি জমা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন—পটিয়া আসনের সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গাজী মু. শাহজাহান জুয়েল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম নেছার ও সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু।

চিঠিতে নেতারা উল্লেখ করেন, এস আলম সংশ্লিষ্টতার কারণে এনামের মনোনয়নে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আবেদনকারী এই চার নেতার মধ্যে যেকোনো একজনকে মনোনয়ন দিলে তারা আসনটি দলকে উপহার দিতে পারবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

নভেম্বরের শুরুতে পটিয়া আসনে এনামুল হক এনামকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এরপর তিনি গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক শুরু করলেও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের তার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে না। যদিও এনামুল হক এনাম সাবেক এমপি গাজী শাহজাহান জুয়েল ও ইদ্রিস মিয়ার বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন।

তবে গত ১৫ নভেম্বর পটিয়া পৌর সদরে গাজী শাহজাহান জুয়েল ও ইদ্রিস মিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির একটি অংশ বড় শোডাউন করে। এছাড়া আরেক বিএনপি নেতা সৈয়দ সাদাত আহমদও ভিডিও বার্তায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনের আগে এমন বিভক্তি দলের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

চিঠির বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল হক এনামের নির্বাচন সমন্বয়কারী ও পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম বলেন, চিঠির বিষয়ে তারা অবগত নন। তারা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে প্রচারণা ও উঠান বৈঠক নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

প্রসঙ্গ, গত বছরের ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট এলাকায় মীর গ্রুপের একটি ওয়্যারহাউস থেকে এস আলম গ্রুপের বিলাসবহুল গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়ার তদারকি করছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম ও কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম মামুন মিয়া।

ওই ঘটনার জেরে ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত এবং তিন নেতার প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। পরে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড না করার সতর্কবার্তা দিয়ে তাদের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।