হালদার এক পাড়ে বাঁধ, অন্য পাড়ে কেন নয়?


চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হালদা নদীর জোয়ারের পানি থেকে ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় স্লুইচ গেট নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের বারিয়াঘোনা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হালদা নদীর পশ্চিম পাড়ে শহর রক্ষায় শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করা হলেও পূর্ব পাড়ের মানুষের সুরক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে এই বৈষম্যের অবসান চেয়ে তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বক্তারা বলেন, হালদা নদীর জোয়ারের পানিতে বারিয়াঘোনা এলাকার প্রায় সব কৃষি জমি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি বর্ষাকালে পুরো এলাকা পানিতে ডুবে থাকায় মৃতদেহ দাফন করতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ নুরুল আলম বলেন, এক সময় এই বারিয়াঘোনা এলাকায় উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম নগরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেত। এখন কৃষি জমিগুলো পানিতে ডুবে থাকায় কেউ আর চাষাবাদ করতে পারেন না।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোট এলে সবাই নানা আশ্বাস দিয়ে যায়, কিন্তু ভোটের পর কেউ আর খোঁজ নেয় না। তিনি এলাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়নে হালদা নদীর ওপর ব্রিজ, স্লুইচ গেট নির্মাণ ও টেকসই বাঁধের জন্য প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, হালদা নদীর পূর্ব পাড়ে স্লুইচ গেট নির্মাণ এবং ভাঙ্গনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তারা এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেবেন বলেও জানান।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক কামাল আহমেদ, মো. লোকমান, সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা, নাজিম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ এরশাদ, মো. জাহাঙ্গীর, রোকন উদ্দিন জিকু, মো. আসাদ, মোহাম্মদ মনির ও মো. রাসেল।