
মাত্র ১৫ জন কৃষক আর ৫০ টাকা মাসিক সঞ্চয় নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি সমবায় সমিতির। মহাজনী ঋণের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচানোর সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগটি এখন ১৪ কোটি টাকা মূলধনের বিশাল প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। অর্জন করেছে জাতীয় সমবায় পুরস্কার।
শনিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এই সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন বক্তারা। এলজিইডির অংশগ্রহণমূলক ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই সমিতি এখন আড়াই হাজার কৃষকের ভরসাস্থল।
সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ও হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, মহাজনী ঋণ থেকে বাঁচাতে স্থানীয় চাষিদের নিয়ে ২০১১ সালে সমিতিটি গঠন করা হয়। শুরুতে সদস্যদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে জমা নেওয়া হতো। স্থানীয় একটি খালে বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা ছিল মূল লক্ষ্য। ধীরে ধীরে সদস্য ও মূলধন বাড়ার ফলে এটি এখন এলাকার জন্য একটি মডেলে পরিণত হয়েছে।
সমিতির তথ্যমতে, বর্তমানে তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৫০০ একর। বর্তমানে সমিতির মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি টাকায়। এছাড়া ৯০ লাখ টাকার শেয়ার মূলধন এবং ৬ কোটি টাকার বেশি ঋণের স্থিতি রয়েছে। ১০ শতক জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে নিজস্ব পাকা ভবন।
সভায় বক্তারা বলেন, অবিশ্রান্ত পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে অজপাড়াগাঁয়ের প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে গঠিত এই সমিতি আজ দেশসেরা। গ্রামের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা কৃষকদের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়ে এই গৌরবময় পুরস্কার অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গ্রাম পর্যায়ে এই অবদান সামান্য বিষয় নয়। তিলে তিলে তারা এটিকে গড়ে তুলেছেন। ভবিষ্যতে তারা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
আইনজীবী মীর মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম সেলিমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক নাজমুল করিম, মিজান সরকার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবেল নাথ ও সমিতির ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আইয়ুব। সভায় প্রায় দেড় হাজার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গত অর্থবছরের কার্যক্রম, আর্থিক হিসাব, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি ব্যবহারে আধুনিক পদ্ধতি এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জাতীয় সমবায় দিবসে ‘কৃষিতে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে এই সমবায় সমিতি। এর আগে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা লাভ করে সংগঠনটি।
