
দেশে বর্তমানে নির্বাচনের কোনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই ফিল্ড রাজনৈতিক দলগুলোকেই তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন হতে হবে, না হলে এ দেশে সংকট দেখা দেবে। তবে কোনো সংকট তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম সফরের শুরুতে চট্টগ্রাম কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের এক বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। সাতচল্লিশ, বাহান্ন ও একাত্তর পার হয়ে জাতি এখন চব্বিশের কূলে দাঁড়িয়ে আছে। এ জাতির হাতে বারবার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু যাদের হাতে তা ব্যবহারের দায়িত্ব ছিল, তারা সুযোগের অপব্যবহার করেছে।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও জাতি কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা এ দেশকে বহু সম্পদ দান করেছেন। কিন্তু জনগণ সেই সম্পদের সুফল পায়নি। কিছু লোক জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে নিজেদের পকেট ভারী করেছে। জনগণ সেই অর্থে কোনো উন্নয়নের মুখ দেখেনি।
সৎ নেতৃত্বের অভাবেই দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে আশানুরূপ অগ্রগতি নেই। চাহিদার তুলনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন কম। এসব কিছুর মূল কারণ হলো—দূরদর্শী, আন্তরিক, দেশপ্রেমিক ও সৎ নেতৃত্বের অভাব।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দেশকে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই সুযোগ কোনোভাবেই হারানো যাবে না। চব্বিশের এই সুযোগের ‘১৬ আনা’ সৎ ব্যবহার করতে চায় তার দল।
এ সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা। তিনি বলেন, এই আহ্বান কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য নয়, বরং গোটা জাতির জন্য। দুর্নীতির মূল উৎপাটন করা গেলে সমাজের অন্যান্য সমস্যা সমাধানের পথও খুলে যাবে। এই যুদ্ধে কারও কাছে মাথানত করবেন না বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দলের নির্বাচনী এজেন্ডা সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে তুলে ধরা। নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা হবে নৈতিক ও আধুনিক, যার মাধ্যমে একটি ‘কেয়ারিং সোসাইটি’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
নির্বাচন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন বা প্রপোর্শনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) নিয়ে তাদের দাবি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় গেলে জামায়াতে ইসলামী পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন করবে।
কনভেনশনাল যুদ্ধের চেয়ে মিডিয়া যুদ্ধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রায় গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করেন জামায়াত আমির।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানসহ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
