
চট্টগ্রাম নগরের জামেয়া মাদানিয়া শুলকবহর মাদ্রাসায় ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হলে এতিম ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হবে এবং আসন্ন পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের মুরাদপুর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ হারুন বলেন, মাদ্রাসার প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক, যাদের অনেকেই এতিম। ভোটকেন্দ্র হলে নির্বাচন শুরুর অন্তত তিনদিন আগে শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসা ছাড়তে হবে। টানা তিন–চার দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে এই এতিম শিক্ষার্থীরা কোথায় যাবে?
ফেব্রুয়ারি–মার্চে শিক্ষার্থীদের হিফজ ও দাওরায়ে হাদিসসহ বিভিন্ন বিভাগের বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়া আকস্মিকভাবে মাদ্রাসাকে ভোটকেন্দ্র ঘোষণা করা উদ্দেশ্যমূলক বলেই মনে হচ্ছে। ভোটের দিনে মানুষের ভিড়, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে প্রতিষ্ঠানজুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান মাদ্রাসার এই সহকারী পরিচালক।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা মহিউদ্দীন, মাওলানা মুফতি হাফিজুল্লাহ, মাওলানা তাহের, মাওলানা মুসা ও মাওলানা গিয়াস উদ্দীন বক্তব্য দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, এর আগেও এখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র ছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এবারও কেন্দ্র করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করা নির্বাচনে অসহযোগিতামূলক আচরণ।
তবে দাবির বিষয়টি একেবারে নাকচ করেননি এই নির্বাচন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আশপাশে কোনো কেন্দ্র না পাওয়ায় এখানে কেন্দ্র করা হয়েছে। যদি আশপাশে বিকল্প কোনো কেন্দ্র পাওয়া যায়, তবে তাদের দাবির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
