
রাজনীতির মাঠ যখন উত্তপ্ত, মামলা আর হামলার ভয়ে যখন অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ব্যস্ত, তখন সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার পথে-প্রান্তরে একজন মানুষ ছিলেন অবিচল। তিনি নাজমুল মোস্তফা আমিন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক এই প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রাজনীতিতে কেবল পদবি আঁকড়ে থাকেননি, বরং দলের দুঃসময়ে হয়ে উঠেছিলেন তৃণমূলের ভরসার স্থল। বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতাকে ঘিরে এখন চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বইছে মনোনয়নের জোরালো হাওয়া।
বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যখন ভিন্ন ছিল, তখন সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার চিত্র ছিল অনেকটাই থমথমে। নেতাকর্মীদের ওপর নেমে এসেছিল গ্রেফতার আতঙ্ক আর মামলার খড়গ। ঠিক সেই সময়টিতেও নাজমুল মোস্তফা আমিন মাঠ ছাড়েননি। ফ্যাসিস্ট সরকারের নানামুখী চাপের মুখেও তিনি কর্মীদের সাহস যুগিয়েছেন, প্রতিটি কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে।
স্থানীয় কর্মীরা বলছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি পিছু হটেননি, বরং আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বের নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দলের দুঃসময়ে যখন অনেক প্রভাবশালী নেতাও নীরব ছিলেন, তখন নাজমুল মোস্তফা আমিনের এই সক্রিয় উপস্থিতি তাকে তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার সাধারণ নেতাকর্মীদের মতে, কঠিন সময়ে যারা দলের হাল ধরেছেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এহছানুল হক এ বিষয়ে তার মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম নাজমুল মোস্তফা আমিন। দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয়, তবে আমরা বিশ্বাস করি, বিপুল ভোটে এই আসনটি দেশনায়ক তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারব।
লোহাগাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাব্বির আহমদও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানান, নাজমুল মোস্তফা আমিন দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতা, যিনি কর্মীদের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে ছিলেন। তাঁর ডাকেই আমরা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, যেখানে তিনি আমাদের সাহস যুগিয়েছেন। শাব্বির আহমদ সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনে এই আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দলের ত্যাগী, জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব নেতাকে মনোনয়ন না দিলে বিজয় অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তাঁর মতে, নাজমুল মোস্তফা আমিনই যোগ্য প্রার্থী এবং তাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করা সম্ভব হবে।
একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবু সেলিম চৌধুরী। অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে জোটের রাজনীতির কারণে আমাদের আসন ছাড়তে হয়েছিল, কিন্তু এবার সেই সুযোগ বা বাধ্যবাধকতা নেই। প্রার্থী ঘোষণা করতে কিছুটা সময় লাগলেও আমরা প্রত্যাশা করি, ধানের শীষ প্রতীকে এবার কোনো ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাই মনোনয়ন পাবেন। দলের চরম দুঃসময়ে নাজমুল মোস্তফা আমিন কর্মীদের পাশে ছিলেন, সেই হিসেবে তিনিই এই আসনের যোগ্য দাবিদার। আবু সেলিম চৌধুরী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দল শেষ পর্যন্ত যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন নাজমুল মোস্তফা আমিন নিজেও। তিনি জানান, দলের একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামসহ দলীয় সব কর্মসূচি পালন করে আসছেন। ভবিষ্যতেও নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। নিজের কাজের মূল্যায়ন হিসেবেই তিনি নিজেকে এই আসনের একজন যোগ্য দাবিদার মনে করেন।
এদিকে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। গত ৩ নভেম্বর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। তবে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি এখনও অঘোষিত ৬৩টি আসনের তালিকায় রয়ে গেছে। প্রার্থী ঘোষণার এই বিলম্ব নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, সাধারণ ভোটার এবং মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে একইসঙ্গে অপেক্ষা ও হতাশা কাজ করছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নাজমুল মোস্তফা আমিন ছাড়াও আরও কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান মুজিব এবং সদস্য অধ্যাপক শেখ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন। তবে তৃণমূলের আলোচনা আর প্রত্যাশার কেন্দ্রে এখন দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতারাই। দলীয় হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
