৩৫ লাখ টাকা খরচ করে শূন্য হাতে ফিরলেন ৩৯ বাংলাদেশি


যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩৯ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। জনপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও আইনি প্রক্রিয়ায় টিকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের জরুরি সহায়তা এবং বাড়ি ফেরার জন্য পরিবহন সহযোগিতা দেওয়া হয়।

ফেরত আসা কর্মীদের তথ্যের বরাতে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানায়, এই ৩৯ জনের মধ্যে অন্তত ৩৪ জন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। বাকি পাঁচজনের মধ্যে দুইজন সরাসরি এবং তিনজন দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আবেদনের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

ফেরত আসাদের মধ্যে নোয়াখালী জেলার বাসিন্দাই সবচেয়ে বেশি, ২৬ জন। এছাড়া কুমিল্লা, সিলেট, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের দুইজন করে এবং চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীর একজন করে রয়েছেন।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ব্রাজিলে বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা ব্রাজিল না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার বা এজেন্সির কোনো সতর্কতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একেকজন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে শূন্য হাতে ফিরলেন, এর দায় কার?

তিনি আরও বলেন, এভাবে বৈধ প্রক্রিয়ায় গিয়ে অবৈধ হওয়ার পথে ছেড়ে দেওয়া ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক এবং দায়িত্বহীনতা। যে এজেন্সি তাদের পাঠিয়েছিল এবং যারা এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ছিল, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারকে সতর্ক হতে হবে।

বিমানবন্দর সূত্র ও ফেরত আসা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের হাতে হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরানো থাকলেও শুক্রবার ফেরত আসাদের ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি।

এর আগে চলতি বছরে আরও ১৮৭ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ২০২৪ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই সংখ্যা ২২০ ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরের ৮ জুন একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ জন এবং ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত একাধিক ফ্লাইটে আরও অন্তত ৩৪ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয়ের আবেদন ব্যর্থ হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে। সম্প্রতি এ প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বেড়েছে।