
টানা দুই বছর ১৬ দিন দায়িত্ব পালন শেষে পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। বিদায়বেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি লিখেছেন—‘আমার সেই ফটিকছড়িবাসী ভালো থাকুক।’
গত ২৬ নভেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে সরকার তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে। আগামী রোববার (৩০ নভেম্বর) তিনি বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিদায়ী অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বন্যার সময়ের স্মৃতিচারণ করেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি লিখেছেন, ‘চারিদিকে পানির সাথে ছিল আমার চোখেও পানি। লাখো মানুষ পানিবন্দি। কিন্তু তেমন কোনো সাহায্যের দেখা নেই। বেশিরভাগ সাহায্য তখন ফেনী জেলা মুখি। চট্টগ্রাম শহরের মানুষ জানেই না ফটিকছড়ির মানুষই ভয়াবহ বন্যাকবলিত।’
বন্যার সেই ভয়াবহ দিনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেন, ‘একটি ছবি পোস্ট করার পর অভূতপূর্ব সাড়া পাই। সাহায্যের গাড়ি দিক পরিবর্তন করে ফটিকছড়িতে একে একে আসতে শুরু করে। রাতেই শত শত উদ্ধারকারী দল হাজির। সারারাত এক অভূতপূর্ব মানবিকতার দেখা পেয়েছিলাম। পরদিন ভোরবেলায় যখন সূর্য উঠছিল তখন বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রশান্তি নিয়ে উপজেলা পরিষদে এসেছিলাম।’
স্থানীয়রা জানান, দায়িত্ব পালনকালে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আহত শিশু-কিশোরদের চিকিৎসা সহায়তা, লাঞ্ছিত শিক্ষকের পাশে থাকাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজের জন্য তিনি উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার বদলির খবরে উপজেলার সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক মন্তব্য করে শুভকামনা জানাচ্ছেন।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. শহীদ ভূইঞা বলেন, ‘জনসেবাই জনপ্রশাসন’—বাক্যটির বাস্তব উদাহরণ তিনি। সকাল ৯টা থেকে গভীর রাত অবধি দাফতরিক কাজের পাশাপাশি মানবিক কাজ করাটা তার নিত্যদিনের রুটিন ছিল।
স্থানীয় ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, কাজের সুবাদে যতটা চিনেছি, তিনি একজন ভালো মানুষ এবং সরকারের একজন চৌকস কর্মকর্তা।
স্থানীয় চিত্রশিল্পী সামসুদ্দিন টনি বলেন, সবকিছুতে পারদর্শী মানুষটি কাজের ফাঁকে হাসিমুখ দিয়ে মানুষের মন কেড়েছেন। তার চলে যাওয়ায় অনেকে কষ্ট পাচ্ছেন।
রোসাংগিরি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. জাকারিয়া সিকদার বলেন, প্রশাসনে এমন মানবিক ও দক্ষ মানুষ বিরল। তাকে খুব মিস করবেন বলে জানান তিনি। এছাড়া উপজেলার প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বশরও ইউএনওর কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
বিদায়ী ইউএনও মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে চেষ্টা করেছি সবার ভালোবাসায় কাজ করতে। এটি পরম সৌভাগ্য। নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। সব ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি বলেন, আমার ফটিকছড়িবাসী ভালো থাকুক।
