
সাধারণত নির্বাচনী মাঠ গরম থাকে স্লোগান আর মাইকের আওয়াজে। কিন্তু দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নে আজ দেখা মিলল ভিন্ন এক চিত্রের। সেখানে কোনো রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল না, ছিল মানুষের আর্তনাদ আর সেই আর্তনাদ প্রশমনে পরম মমতার ছোঁয়া।
ভোটের মাঠে যখন প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ব্যস্ত, তখন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী চিকিৎসক ডা. এটিএম রেজাউল করিম বেছে নিলেন সেবার পথ। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ নির্বাচনী প্রচারণাকে ছাপিয়ে হয়ে উঠল এক অনন্য সেবামূলক দৃষ্টান্ত।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পদুয়ায় আজ সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। উদ্দেশ্য ডা. রেজাউলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প’। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ, বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় স্বেচ্ছাসেবকদের।
তবে বিশৃঙ্খলা নয়, বরং এক সুশৃঙ্খল পরিবেশেই ৩০ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দিনভর সেবা দিয়ে গেছেন। শিশু রোগ, মেডিসিন, গাইনি, চর্ম, চক্ষু এবং বার্ধক্যজনিত নানা রোগের জন্য খোলা হয়েছিল আলাদা আলাদা বুথ।
চিকিৎসকদের সঙ্গে একদল দক্ষ সহকারী সার্বক্ষণিক কাজ করেছেন—কেউ রোগীর নাম নিবন্ধন করছেন, কেউ ব্যবস্থাপত্র বুঝিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ বিনামূল্যে ওষুধ তুলে দিচ্ছেন রোগীদের হাতে।

দিনশেষে হিসাব কষে দেখা যায়, প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ক্যাম্প থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সেবা পেয়ে মানুষের চোখেমুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। অর্থাভাবে যারা এতদিন ভালো ডাক্তারের কাছে যেতে পারেননি, বাড়ির কাছেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পেয়ে তারা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন। ৩০ জন চিকিৎসকের ক্লান্তিহীন পরিশ্রম আর আন্তরিকতা সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর আস্থার জায়গা তৈরি করেছে।
ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. এটিএম রেজাউল করিম কেবল বর্তমানের সেবার কথাই বলেননি, শুনিয়েছেন ভবিষ্যতের আশার বাণীও। তিনি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে একটি আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর কথায় উঠে আসে সুস্থ সমাজ গড়ার প্রত্যয়।

এ সময় ডা. এটিএম রেজাউল করিম বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যই জাতির শক্তি। রাঙ্গুনিয়াকে স্বাস্থ্যসেবায় স্বনির্ভর করতে আরও বড় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও তিনটি মেডিকেল ক্যাম্প করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
কেবল ভোটের রাজনীতি নয়, বরং মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতাই ডা. রেজাউলকে নিয়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায়। রাঙ্গুনিয়ার মানুষের কাছে আজকের এই মেডিকেল ক্যাম্পটি ছিল কেবল একটি কর্মসূচি নয়, বরং ভরসার এক নতুন ঠিকানা।
