পটিয়ায় দুই স্কুলে পরীক্ষার খাতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ


সরকারি বরাদ্দ থাকার পরও চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম ভেঙে বাড়ি থেকে খাতা আনতে বাধ্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

সোমবার থেকে সারা দেশের মতো পটিয়া উপজেলার ১৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরীক্ষার ফি নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং পরীক্ষার যাবতীয় খরচের জন্য শিক্ষার্থী অনুপাতে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কিন্তু সরকারি এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে পটিয়া পৌর সদরের মোহছেনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার খাতা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে মোহছেনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে খাতা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাদের সন্তানদের পরীক্ষার জন্য খাতা দিতে বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী তারা ১৮ পৃষ্ঠার খাতা স্কুলে জমা দিয়েছেন। সরকারি বরাদ্দ থাকার বিষয়টি তাদের জানা ছিল না উল্লেখ করে তারা প্রশ্ন তোলেন, যদি বরাদ্দ থাকে, তবে সেই টাকা কোথায় যায়?

একই চিত্র দেখা গেছে পৌর সদরের শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানেও অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদরের বাইরের বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো খাতা নেওয়া হচ্ছে না। একই উপজেলায় দুই ধরনের নিয়ম চলায় অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মোহছেনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চাঁদ সুলতানা বলেন, বরাদ্দের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় খাতা নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি অভিভাবকদের উৎসাহেই নেওয়া হচ্ছে এবং একে অনিয়ম বলা যাবে না বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে শশাংকমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলুয়ারা বেগম বলেন, সরকারি স্লিপের বরাদ্দ এখনো না আসায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শেই খাতা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কর্মকার বলেন, সরকারি স্লিপের বরাদ্দ থাকার পরও অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে। যদি শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হয়, সেক্ষেত্রে স্কুল কমিটি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে রেজুলেশন করার মাধ্যমে খাতা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।