
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আটটি ভাটা মালিককে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একইসঙ্গে আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা সাতটি ভাটার চিমনি ও চুল্লি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করায় এসব ভাটায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সাতটি ভাটা মালিককে মোট ১৩ লাখ টাকা এবং অপর একটি ভাটা মালিককে ৩ লাখ টাকাসহ মোট ১৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জরিমানার পাশাপাশি উপজেলার ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট এলাকার মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকস (কেআরএম), মির্জাপুর ইউনিয়নের মেসার্স চারিয়া মেঘনা ব্রিকস (এনবিএম), চারিয়া এলাকার মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস (কেবিসি), মেসার্স কাজী ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং (কেবিএম), মেসার্স শাহেন শাহ ব্রিকস ফিল্ড (এসএনএফ), মেসার্স চট্টলা ব্রিকস (সিবিএম) এবং মেসার্স সেঞ্চুরি ব্রিকস (সিবিএম-১)-এর চিমনি ও চুল্লি ভেঙে দেওয়া হয়।
এর মধ্যে মেসার্স হিমালয় ব্রিকসের মালিক মো. রাশেদুল ইসলামকে ৩ লাখ টাকা, মেসার্স চারিয়া মেঘনা ব্রিকসের মালিক মো. ইলিয়াছকে ২ লাখ টাকা এবং মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকসের মালিক মো. ফোরকান আহমদকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া একই মালিক মো. সাখাওয়াত হোসেনের মালিকানাধীন মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস, মেসার্স কাজী ব্রিকস, মেসার্স শাহেন শাহ ব্রিকস, মেসার্স চট্টলা ব্রিকস ও মেসার্স সেঞ্চুরি ব্রিকস—এই পাঁচটি ভাটার প্রতিটিকে ২ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আশরাফ উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ রসায়নবিদ জান্নাতুল ফেরদৌস, পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব-০৭, আনসার সদস্য, হাটহাজারী থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
