অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই, আপিল খারিজ


ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিট মামলায় আপিলের অনুমতির আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে আর কোনো আইনি প্রশ্ন থাকল না।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ পর্যবেক্ষণসহ এই আদেশ দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। আদালতকে সহায়তা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল, শরীফ ভুঁইয়া, শিশির মনির ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছেন যে তারা হাইকোর্টের রায়ের মধ্যে কোনো ভ্রান্তি, ভুল বা বেআইনি কিছু পাননি। তাই পর্যবেক্ষণসহ আবেদনটি খারিজ করা হয়েছে।

তিনি শুনানির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার পর তার মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্যরাও পালিয়ে যান বা লুকিয়ে থাকেন। এমন এক ‘ফাইন মর্নিং’ বা দুপুরবেলায় দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। ওই পরিস্থিতিতে একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং সংকট মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্টের মতামত (রেফারেন্স) নিয়েছিলেন। তবে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের বৈধতা কেবল ওই মতামতের ওপর নির্ভর করে না।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে যে আদেশ দিয়েছিল, আপিল বিভাগ সেটাকে যথার্থ বলেছে। সর্বোচ্চ আদালত মনে করেছে, এতে হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই। প্রকারান্তরে এই আদেশের মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যে জনগণের মতামত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, সেটিই স্থায়ী রূপ পেল।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ডিসেম্বরে রিটটি করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ। শুনানি শেষে গত ১৩ জানুয়ারি বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এক অনন্য পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক মতামত গ্রহণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করেছেন। তাই এই সরকার আইনি দলিল ও বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার দ্বারা সমর্থিত। রিটটিকে ‘ভ্রান্ত ধারণা, বিদ্বেষপ্রসূত ও হয়রানিমূলক’ উল্লেখ করে খারিজ করা হয়।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। সরকার গঠনের আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত চান। তখন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মতামত দেয় যে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে এবং জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে পারবেন এবং তাদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন।