৪০ বছরে যার মুখে ‘কটু কথা’ শোনেনি জাতি; তাঁর জন্যই আজ প্রার্থনার ঢল


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেগুলোতেও তিনি জয়লাভ করেন। অন্যদিকে পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনাও নির্বাচনে দুইবার পরাজিত হয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই হাসিনার রোষানলে পড়ার অন্যতম কারণ।

ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে খালেদা জিয়াকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য হাসিনা কী করেননি! মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা, অন্যদিকে হাসিনার অনুগত ‘পেইড’ সাংবাদিক নামধারী নরকীটদের দিয়ে রাতের বেলায় টক শোর নামে জিয়া পরিবারকে ছোট করার কতশত অপপ্রচার দেশবাসীসহ সারা বিশ্ব দেখেছে। দেশত্যাগ অথবা কারাগার—আওয়ামী লীগ সরকারের এমন শর্তের সামনে দাঁড়িয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেছে নিয়েছিলেন কারাগার। বিনা অপরাধে তাঁকে বন্দি করা হয়। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।

নির্জন কারাগারে একাকী তিন বছর কাটান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অসুস্থতা তাঁকে কাবু করলেও তিনি মাথা নত করেননি। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে চিকিৎসার আবেদন বারবার নাকচ করে দেয় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার। তাঁর এই আপসহীন নেতৃত্ব সারা জীবন এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেরণা হয়ে থাকবে। ২০২১ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু এটি ছিল একধরনের গৃহবন্দিত্ব। চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চাইলেও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার শর্ত দেয়—রাজনীতি ছাড়তে হবে। কিন্তু আপসহীন বেগম খালেদা জিয়া তাতে রাজি হননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে আসে এক নতুন সকাল। ফ্যাসিবাদের পতন চূড়ান্ত হয়। নির্যাতন ও গৃহবন্দিত্বের অবসান ঘটে, মুক্তি পান নিরপরাধ খালেদা জিয়া। গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের জনগণ তাদের নেত্রীকে স্বাগত জানায়; ফিরে আসে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের স্বপ্ন। হাসিনার রোষানলে পড়ে সাজানো মিথ্যা দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশে যেতে পারবেন না—এমন শর্তে সাজা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই থেকে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। এর মধ্যে কয়েক দফায় লিভার সিরোসিস, হার্টের জটিলতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি।

বর্তমানে ১৮ কোটি মানুষের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চীন-আমেরিকা-যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে বট বাহিনী মিথ্যা গুজব ও প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত। খুব শিগগির, সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই অসুস্থ মায়ের পাশে সপরিবার চলে আসবেন তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাসহ সবাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সমগ্র জাতির কাছে দোয়ার আবেদন করেছেন। এরই মধ্যে বেগম জিয়াকে ‘ভিভিআইপি’ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁর নিরাপত্তায় এসএসএফ সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। বিএনপির নেত্রী আজ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সমগ্র জাতির নেতায় পরিণত হয়েছেন। সারা জাতি আজ দেশনেত্রীর জন্য প্রার্থনারত।

মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, গির্জাসহ সব ধর্মের মানুষই বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য যার যার অবস্থান থেকে প্রার্থনা করছেন। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সারা দেশব্যাপী খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল পালন করছেন। বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও অরাজনৈতিক সংগঠনও খতমে কুরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছে।

ব্যক্তিপর্যায়েও গরু-ছাগল সদকাসহ দোয়া মাহফিল, বুখারি শরীফ খতম ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীরাও নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী বিশেষ প্রার্থনা করছেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানসহ সবাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

আঠারো কোটি মানুষের দোয়ায় সুস্থ হয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—এটা সমগ্র দেশবাসীর চাওয়া। ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যার মুখ দিয়ে একটি খারাপ শব্দও বের হয়নি, এমন মানুষ বা নেতা এই দুনিয়ায় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন নিজের যোগ্যতা ও কর্মগুণে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বেগম খালেদা জিয়াকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করুন। আমিন।

মো. জহিরুল ইসলাম (জহির): বি.এস.সি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং; এল.এল.বি; সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল।