
দশ দিন আগেই বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে মাকে ওমরাহ করাতে সৌদি আরবে নিয়ে গিয়েছিলেন। ইচ্ছে ছিল, পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ শেষে মায়ের হাত ধরেই দেশে ফিরবেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মায়ের সাথে আর দেশে ফেরা হলো না নুরুল আলমের; সৌদি আরবের তপ্ত পিচঢালা পথেই ঝরল তার তাজা প্রাণ।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সৌদি আরবের মাহাইল শহরের আল ব্রিক রোডে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৩৮ বছর বয়সী এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। নাদেক কোম্পানির একটি গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত নুরুল আলম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সালেহ আহমদের পুত্র। তিন সন্তানের জনক নুরুল আলম জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে ছিলেন। মাহাইলে তিনি কাপড়ের ব্যবসা করতেন এবং নিজেই গাড়ি চালিয়ে দোকানে দোকানে মালামাল সরবরাহ করতেন।
নিহতের নিকটতম আত্মীয় মো. মোরশেদ জানান, রাত দশটার দিকে তারা এই দুঃসংবাদ পান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাত্র দশ দিন আগে মা ও খালাম্মাকে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য দেশ থেকে সৌদি আরবে নিয়ে গিয়েছিলেন নুরুল। কথা ছিল ওমরাহ শেষে সবাই একসাথেই দেশে ফিরবেন। কিন্তু ফেরার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সৌদি আরবের মাহাইলে অবস্থানরত এম এ হাসান জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নুরুল আলম নিজেই গাড়ি চালিয়ে কাপড় সরবরাহ করতে বেরিয়েছিলেন। পথিমধ্যে আল ব্রিক রোডে পৌঁছালে নাদেক কোম্পানির একটি গাড়ির সাথে তার গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বর্তমানে তার মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে ভিড় করছেন।
আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও নিহতের প্রতিবেশী আবুল কালাম জানান, নুরুল আলম অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। মাত্র ৪-৫ মাস আগেই দেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন তিনি। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
