সাতকানিয়ার চরতিতে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেল ৩ হাজার মানুষ


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় আল হেলাল মহিলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় তিন হাজার মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ গ্রহণ করেছেন।

চরতি ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে এবং ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চের সহযোগিতায় এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, চর্ম, চক্ষু ও দন্তসহ বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সেবা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় এই সেবা পৌঁছে দিতে এমন ক্যাম্প অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকা উচিত।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ফোরকানুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাহাড়তলী সার্কেল) আবুল কালাম চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. আয়েশা আফরিন। তারা এই উদ্যোগকে মানবিক ও সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।

চরতি ইসলামিক সেন্টারের সদস্য সচিব এরশাদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ডা. রেজাউল করিম, রাজনীতিবিদ আজিজুর রহমান, আবুল হাশেম, ফরিদুল হক কাদেরী, ওসমান সিকদার, সরওয়ার কামাল, জুনায়েদুল হক, আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন, শোয়াইব চৌধুরী, আবু ছৈয়দ, সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ যায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পে প্রায় ৬০ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী অংশ নেন। সেবাপ্রার্থীদের রক্তচাপ, রক্তের সুগার, ব্লাড গ্রুপ, হিমোগ্লোবিন, ইসিজি, অ্যালার্জি টেস্ট ও চোখের পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয়। এছাড়া জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আবুল খায়ের জানান, এলাকায় এমন মানসম্পন্ন বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প খুব কমই হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ায় তারা সন্তুষ্ট।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ফোরকানুল ইসলাম বলেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল লক্ষ্য। তিন হাজার মানুষকে সেবা দিতে পারা তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।