
চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে অপহরণের তিন দিন পর মো. নাজিম উদ্দিন নামের এক যুবককে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অপহরণ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় র্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে হাটহাজারী থানাধীন নজুমিয়ার হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার খায়রুজ্জামান চৌধুরীর ছেলে মো. আজম (৪৯) এবং ভুজপুর থানার উত্তর হাজিরখিল এলাকার ইব্রাহীম খলিলউল্লার ছেলে আবু সামা (২৪)।
র্যাব জানায়, অপহৃত নাজিম উদ্দিন (২৩) নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার বাসিন্দা এবং তিনি জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় বসবাস করেন। গত ৩০ নভেম্বর তিনি ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে যান । সেখান থেকে ১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে সিএনজি অটোরিকশায় করে ফেরার পথে হাটহাজারীর মির্জাপুর সরকারহাট বাজার এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটিতে গ্যাস সংকট দেখা দেয়।
এসময় তিনি অন্য একটি সিএনজিতে ওঠার চেষ্টা করলে মো. আজম ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে একটি অপরিচিত ক্লাব ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে নাজিমকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং তার স্ত্রীর ইমো নম্বরে কল করে ৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং স্বামীকে উদ্ধারের জন্য র্যাবের কাছে আবেদন জানান।
অভিযোগ পেয়ে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে ৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নজুমিয়ার হাট এলাকা দিয়ে একটি সাদা রঙের টয়োটা গাড়িতে করে ভিকটিমকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় র্যাব গাড়িটি আটকায়। এসময় গাড়ি থেকে নাজিম উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয় এবং দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের এবং উদ্ধার করা ভিকটিমকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভুঁইয়া জানান, এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং আসামিদের শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
