
উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন যাওয়ার দিনক্ষণ আবারও পরিবর্তন করা হয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে বিলম্ব এবং শারীরিক অবস্থার জটিলতা—এই দুই কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ যাত্রা তৃতীয়বারের মতো পিছিয়ে গেল।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাতার সরকারের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আগামী ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছাতে পারে এবং প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর তিনি দেশ ত্যাগ করতে পারেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ম্যাডামের লন্ডন যাত্রা পিছিয়েছে এবং এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছানোর পর যেকোনো দিন তাকে নিয়ে যাওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার সকালে কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কারিগরি ত্রুটির কারণে যাত্রা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শনিবার বিমানটি ঢাকায় পৌঁছাতে পারে এবং শারীরিক অবস্থা অনুকূলে থাকলে রবিবার তিনি রওয়ানা হতে পারেন। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং লজিস্টিক কারণে সেই সময়সূচি এখন পুনর্নির্ধারণ করে ৯ ও ১০ ডিসেম্বর করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। দীর্ঘ বিমান যাত্রার ধকল তিনি সহ্য করতে পারবেন কি না, সেটি বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এর আগে জানিয়েছিলেন, বিমান ছাড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গত ২৭ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
