
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আবারও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মুজিবুর রহমানের সমর্থকরা। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠারদোকান এলাকায় গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে এই অবরোধ করা হয়।
আকস্মিক এই অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও রোগীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানকে পাশ কাটিয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ তারা। অবরোধ চলাকালে নেতাকর্মীরা আমিনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের কর্মী দেলোয়ার হোসেন বলেন, মুজিবুর রহমান দলের কঠিন সময়ে রাজপথে ছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে অপরিচিত কাউকে মনোনয়ন দেওয়া তারা মেনে নেবেন না।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন ঘোষণার দিনও একই দাবিতে সাতকানিয়ার ঠাকুরদিঘীর পেট্রোল পাম্প এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন মুজিবুর রহমানের অনুসারীরা। মাত্র দুদিনের ব্যবধানে আবারও একই নেতার সমর্থকদের অবরোধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকরা।
অবরোধে আটকে পড়া শ্যামলী পরিবহনের চালক আবু বক্কর বলেন, তারা সারাদিন রাস্তায় পরিশ্রম করেন। কারো মনোনয়ন না পাওয়ার জেরে মহাসড়ক বন্ধ করে রাখলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে। রাজনীতি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে জনগণের জীবনযাত্রা থামিয়ে দেওয়া অন্যায়।
সৌদিয়া পরিবহনের চালক আব্দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তায় হাজারো মানুষ চলাচল করে। এমন অবরোধে গাড়ি আটকে থাকে, যাত্রীদের গালমন্দ শুনতে হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। যারা রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মাইক্রোবাস চালক জামাল উদ্দিন বলেন, পথে এভাবে অবরোধ পড়লে চালকদের পাশাপাশি অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ ও নারী-শিশুরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। এমন বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা যায় না।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ সরিয়ে দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকলেও কোনো যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়রা বলছেন, মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ থাকতে পারে। কিন্তু সেজন্য বারবার দেশের ব্যস্ততম মহাসড়ক অবরোধ করে লাখো মানুষের জীবনযাত্রা থামিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
