
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) শত কোটি টাকার জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। গত সাত দশকে অধিদপ্তরের অন্তত ২০ একরের বেশি জমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যেই নতুন করে ডাকবাংলোর সীমানা ঘেঁষে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
সওজ সূত্র জানায়, ১৯৫৫ সালে জাতীয় মহাসড়কের অধীনে চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতু থেকে থানা রাস্তার মাথা পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকার জন্য ৩২ দশমিক ৫১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক দাপট খাটিয়ে এর মধ্যে ২০ একরের বেশি জমি দখল করে মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, পৌরশহরের এই এক কিলোমিটার এলাকায় প্রতি গণ্ডা জমির দাম কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে বেদখল হওয়া জমির মূল্য আকাশচুম্বী।
সম্প্রতি চকরিয়া সড়ক বিভাগের ডাকবাংলোর সীমানা প্রাচীর লাগোয়া কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ এহেছান ওরফে দুবাই এহেছান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত নভেম্বরে কক্সবাজার সওজ অধিদপ্তর তাকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে আইনি নোটিশ পাঠালেও কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সওজ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৭-৫৮ সালে মাতামুহুরী ব্রিজের অ্যাপ্রোচ ও ডাকবাংলোর জন্য চিরিঙ্গা মৌজায় ১ দশমিক ৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয় এবং মূল মালিকরা টাকাও বুঝে নেন। কিন্তু ১৯৮২ সালে বিএস রেকর্ডের সময় ওই জমি নিচু শ্রেণির হওয়ায় সওজ ব্যবহার করেনি। এই সুযোগে ভুয়া দলিল সৃজন করে মালিক সেজে এহেছান ও সোলতান আহমদ সিরাজী ২০১৮ সালে নতুন অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সময় জেলা প্রশাসন থেকে ৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫৭ টাকা ক্ষতিপূরণ তোলার চেষ্টা করেন।
চক্রটি সেই টাকা প্রায় হাতিয়ে নিলেও পাশের জমির মালিক জমজম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ ও হাইকোর্টে রিট মামলার কারণে তা আটকে যায়। হাইকোর্টের নির্দেশেই সেই টাকা আর উত্তোলন করতে পারেননি অভিযুক্তরা।
চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, মহাসড়কের দুই পাশের জমির মূল্য বাড়ায় দাপুটে চক্র জমি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। জনবল ও নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী না থাকায় সওজ অধিদপ্তর জমি রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে। অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরই আবারও দখলবাজরা ফিরে আসে।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ এহেছান দুবাই অবস্থান করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনউদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, ডাকবাংলো লাগোয়া সওজের জমিতে দুবাই এহেছান অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আগেও মামলা হয়েছে এবং গত মাসে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের আলোকে স্থাপনা না সরালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।
