মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিলের রিট শুনানি বৃহস্পতিবার


দেশের পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে হাজার হাজার একর সংরক্ষিত বন ও উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের অভিযোগে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল (বর্তমানে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা এনএসইজেড) বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ সংক্ষিপ্ত কার্যতালিকা শেষে শুনানির এই দিন ধার্য করেন। রিটকারী আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার কাজী আখতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের ৫ আগস্ট দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত ‘ফ্যাক্টরিস রাইজ অ্যাজ ফরেস্ট ফলস: মিরসরাইস ট্রুবলিং ট্রেড-অফ’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গত সেপ্টেম্বরে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করা হয়।

ব্যারিস্টার কাজী আখতার হোসেন জানান, রিটে পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, মিরসরাই ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস, বেপজা ও বেজাকে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৯২৭ সালের বন আইন লঙ্ঘনের দায়ে এনএসইজেডকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন।

আদালত সে সময় উল্লেখ করেছিলেন, প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে প্রকল্পটিতে বিশাল এলাকার সংরক্ষিত বন ও ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি এবং উপকূলীয় জনবসতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত ৩৩ হাজার ৮০৫ একর আয়তনের এই জোনে সব ধরনের কাজের ওপর তিন মাসের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) জারি করেছিলেন।

তবে বেপজার আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ নভেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব হাইকোর্টের সেই আদেশ স্থগিত করেন। ফলে রুল শুনানি ও নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেজা ও বেপজাকে ভূমি উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। গত ৩ ডিসেম্বর এই আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে সার্টিফায়েড হয়।

বেজা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ। এখানে ১৫৫ জন বিনিয়োগকারীকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে এবং আরও ২৮টি কারখানার নির্মাণকাজ চলছে।